২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:৫৯

হৃদয়ের ঝড়ে জাফনার রোমাঞ্চকর জয়

হৃদয়   © সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৮ বলের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। শেষ ওভারে চারটি ছক্কার ঝড়ে অপরাজিত ৩১ রান করে জাফনা টাইটান্সকে দুইশ রানের গণ্ডি পার করান তিনি। আর সেই ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করেই কলম্বোকে ১৯ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে জাফনা।

ইনিংসের একেবারে শেষ দিকে ব্যাট করতে নামেন হৃদয়। তখন জাফনার ইনিংসে বাকি মাত্র ১১ বল। শেষ ওভারের প্রথম বল খেলতে যাওয়ার সময় তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ২ বলে ১ রান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় হৃদয়ের ব্যাটিং ঝড়। মাত্র ৮ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল চারটি ছক্কা ও একটি চার। তার স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য ৩৮৭.৫০।

জাফনা ১৮ ওভার শেষে তুলেছিল ১৬৪ রান। শেষ দুই ওভারে দলটি আরও ৩৯ রান যোগ করে পৌঁছে যায় ২০ ওভারে ২০৩ রানে।

বিশেষ করে শেষ ওভারটি ছিল পুরোপুরি হৃদয়ের দখলে। শাহনেওয়াজ দাহানির করা সেই ওভারে জাফনা তোলে ৩১ রান, যার মধ্যে হৃদয়ের একার অবদান ৩০ রান। প্রথম তিন বলেই টানা তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান তিনি। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি না পেলেও দুই রান নেন। এরপর পঞ্চম বলে আরেকটি ছক্কা এবং শেষ বলে চার মেরে ইনিংস শেষ করেন।

হৃদয়ের এই বিস্ফোরক ইনিংস জাফনাকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়, যা পরে ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এর আগে জাফনার হয়ে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন আফগানিস্তানের ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। ৬৫ বলে ৯৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও শেষ পর্যন্ত রানআউট হয়ে ফিরতে হয় তাকে। আরেক ওপেনার কামিল মিশারা মাত্র ১৯ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।

জাফনার হয়ে খেললেও বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ব্যাট করার সুযোগ পাননি।

বল হাতেও সাকিব খুব একটা সফল হতে পারেননি। তিন ওভার বোলিং করে ২৭ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।

জাফনার হয়ে বোলিংয়ে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স করেন বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা। তিনি ৩০ রান খরচায় চারটি উইকেট তুলে নিয়ে কলম্বোর ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।

২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলম্বো নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৩ রানেই থেমে যায়। ফলে ১৯ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাফনা।

এই জয়ের ফলে ছয় ম্যাচে চারটি জয় তুলে নিয়ে জাফনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৮ পয়েন্ট। পয়েন্ট তালিকায় তারা এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর ম্যাচের শেষ দিকে হৃদয়ের বিস্ফোরক ব্যাটিংই জাফনার এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।