অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন গতিতারকা নাহিদ রানা। একইসঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারছেন না লিটন দাসও। এ ছাড়া প্রথম টেস্টে শরীফুল ইসলামের খেলার সম্ভাবনাও খুবই কম। শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি জানায়, গত ১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে বাঁ পাশের পেশিতে (লেফট সাইড) চোট পান নাহিদ রানা। পরীক্ষায় তার গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ধরা পড়েছে। এই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের কোনো ম্যাচেই তিনি খেলতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, 'টিস্যু সুস্থ হতে তার (নাহিদ) প্রায় চার সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। এরপর বোলিংয়ের ওয়ার্কলোড বাড়ানোর জন্য আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হবে। চোট পাওয়ার দিন থেকে হিসেব করলে তার সেরে উঠতে মোট ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।'
এদিকে জিম্বাবুয়ে সফরে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-১ চোট পান শরিফুল। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগেই তার সেরে ওঠার সম্ভাবনা জোরালো। তবে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ জানিয়েছে, 'আগামী ২৯ জুলাই থেকে সে পুনরায় বোলিং শুরু করবে এবং ১২ আগস্টের দিকে ফিটনেস পরীক্ষা করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনা কম হলেও, বোলিং ওয়ার্কলোড সফলভাবে শেষ করা ও চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার সাপেক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বিবেচিত হতে পারে।'
অন্যদিকে বাঁ পায়ের পেশির চোটের কারণে জিম্বাবুয়ে সফর ও এলপিএল খেলতে পারেননি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। শরিফুলের মতোই তারও প্রথম টেস্ট হাতছাড়া হবে। তার চোট সেরে ওঠার বিষয়ে বোর্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'সিঙ্গাপুরে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার পর গতকাল তার পিআরপি (প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা) থেরাপি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ জুলাই থেকে তার রানিং ও কন্ডিশনিং কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে এবং ১৩ আগস্ট নাগাদ একটি ফিটনেস অ্যাসেসমেন্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পেলে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে তিনি দলে নির্বাচনের জন্য উপলব্ধ থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।'
আরেক পেসার তানজিদ হাসান সাকিব এখনও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, আরও ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ এই লড়াই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার মাঠে ফিরতে ফিরতে এ বছরের শেষাংশ চলে আসবে। বোর্ড জানিয়েছে, 'হাড়ের ফ্র্যাকচার কতটা সেরে উঠেছে, তার ওপর ভিত্তি করে মাঠে ফেরার সময়সীমা নির্ধারিত হবে, তবে ধারণা করা হচ্ছে চলতি বছরের শেষের দিকে তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত হতে পারেন।'
এ ছাড়া জিম্বাবুয়ে সফরে চোট পাওয়া কাটার-মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, 'ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফ ইঞ্জুরি থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এই বাঁ-হাতি পেসার প্রতিদিন রিহ্যাব করছেন এবং চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং অনুশীলনে অগ্রগতি হলে আগামী ১৮ আগস্টের পর তিনি পুরোপুরি সিলেকশনের জন্য ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।'