ওয়ানডে বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন আনল আইসিসি
ক্রিকেটবিশ্বে বহুল আলোচিত ২০১৯ ও ২০২৩ সালের ১০ দলের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের সেই দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। তবে শুধু দল বাড়ানোই নয়, টুর্নামেন্টের মূল ফরম্যাটেও এবার বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাটি।
একই সাথে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা যাবে সম্পূর্ণ নতুন ও রোমাঞ্চকর এক ফরম্যাট। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইসিসি আগামী দুটি মেগা ইভেন্টের এই নতুন ফরম্যাট ও রূপরেখা প্রকাশ করেছে।
পরের দুই বিশ্বকাপের প্রথমটি অর্থাৎ ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ১৪টি দল নিয়ে। সবশেষ ২০১১ ও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ১৪টি দলকে সাতটি করে দুই গ্রুপে ভাগ করে খেলানো হলেও এবার খেলার ধাপে বড় পরিবর্তন এনে টুর্নামেন্টকে ৩টি রাউন্ডে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম রাউন্ড বা 'সুপার সিরিজ' পর্বে টুর্নামেন্টের আইসিসি র্যাঙ্কিং কিংবা বাছাইপর্ব পার করে আসা তলানির ৩টি দল (১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর দল) নিজেদের মধ্যে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে মুখোমুখি হবে। এখান থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ কেবল একটি দল পরবর্তী মূল পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং বাকি দুটি দল বিদায় নেবে।
দ্বিতীয় রাউন্ড বা গ্রুপ পর্বে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ১১টি দল এবং প্রথম রাউন্ড থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আসা ১টি দলসহ মোট ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ৬টি দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে বাকি দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া আরও ১টি দলসহ মোট ৭টি দল যাবে পরবর্তী রাউন্ডে। এরপর তৃতীয় রাউন্ড বা 'সুপার সেভেন' পর্বে এই ৭টি দল আবার নিজেদের মধ্যে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের মুখোমুখি হবে এবং পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৪টি দল সেমিফাইনালে উঠবে। সবশেষে প্রথাগত নিয়মেই পয়েন্ট টেবিলের ১ম দলের সঙ্গে ৪র্থ দল এবং ২য় দলের সঙ্গে ৩য় দলের মধ্যে দুটি সেমিফাইনাল এবং দুই সেমিফাইনালের জয়ী দলের মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্য সংস্করণের মেগা আসর অর্থাৎ ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বমঞ্চেও অংশ নেবে মোট ২০টি দল। তবে গত আসরগুলোর চেনা ‘সুপার এইট’ ফরম্যাটকে বিদায় জানিয়ে এবার যুক্ত করা হচ্ছে ‘সুপার টেন’ এবং রোমাঞ্চকর এলিমিনেটর লড়াই। এর গ্রুপ পর্বে আগে ২০ দলকে ৪টি গ্রুপে ভাগ করা হলেও এবার ফরম্যাট বদলে গ্রুপ করা হয়েছে ৫টি এবং প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৪টি করে দল। প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল অর্থাৎ মোট ১০টি দল যাবে পরবর্তী ‘সুপার টেন’ রাউন্ডে।
এই ১০টি দলকে পুনরায় দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৫টি করে দল। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে মোট ৪টি দল সরাসরি সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। আর সেমিফাইনালের বাকি দুটি স্পটের জন্য হবে নকআউট এলিমিনেটর লড়াই, যেখানে সুপার টেনের এক গ্রুপের ২য় স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে অন্য গ্রুপের ৩য় স্থানে থাকা দলের। এই দুটি এলিমিনেটর ম্যাচের বিজয়ী দুই দল সেমিফাইনালের বাকি দুটি আসনে গিয়ে বসবে এবং এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হবে।
আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কটল্যান্ড সরাসরি ‘ইউরোপ রিজিওনাল ফাইনাল’-এ খেলার বিশেষ সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া যে দলগুলো সরাসরি ২০২৮ বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হবে, তারা সরাসরি ‘গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার’-এ খেলার সুযোগ পাবে। আঞ্চলিক বা রিজিওনাল টুর্নামেন্ট থেকে কোয়ালিফায়ারে আসবে আরও ৮টি দল।
পাশাপাশি সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটের মান ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বকাপের ঠিক আগে ১৬ দলের একটি পৃথক ‘গ্লোবাল টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির অর্থ কমিটির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই আলোর মুখ দেখবে।
উল্লেখ্য, আইসিসির সবশেষ মেগা ইভেন্ট হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই সংস্করণের শিরোপা ঘরে তোলে টিম ইন্ডিয়া। আর ওয়ানডে সংস্করণের সবশেষ মেগা আসরে (২০২৩) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১ লাখ দর্শকের সামনে ভারতকে স্তব্ধ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ দল ৯ নম্বরে অবস্থান করছে। যেখানে যথাক্রমে এক, দুই ও তিনে থাকা ভারত, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার রেটিং পয়েন্ট ১২১, ১১০ ও ১০২।