০৮ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৭

ভারতকে ৭৬ রানে অলআউট করে বড় লজ্জা দিল ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল   © টিডিসি ফটো

ব্যাট হাতে ২০১ রান, এরপর আগুনঝরা পেস বোলিং—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ভারতকে রীতিমতো উড়িয়ে দিল ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট ব্রিজে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৭৬ রানে গুটিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। একই সঙ্গে এটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০১ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে মাত্র ১১.৪ ওভারে ৭৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় ভারত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। মাত্র ৭০ বল স্থায়ী হওয়া এই ইনিংস টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত অলআউট ইনিংসও।

এই জয়ে হাতে দুটি ম্যাচ রেখেই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিস্টলে চতুর্থ ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে তারা।

ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক দুই পেসার জফ্রে আর্চার ও জশ টাং। ঘণ্টায় ৯০ মাইলের বেশি গতির আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরু থেকেই ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলেন তারা। আর্চার ২৯ রানে ৩টি এবং টাং ২৮ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং ধসের নেতৃত্ব দেন।

২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। অভিষেক শর্মা, ইশান কিশান ও শ্রেয়াস আইয়ার—তিনজনই শর্ট বলের ফাঁদে পড়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন।

বিশেষ নজরে ছিলেন ১৫ বছর বয়সী ব্যাটিং বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমে আর্চারের দ্বিতীয় বলেই থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। পরে টাংকেও মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন। তবে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা ছিল শর্ট বল দিয়ে তাকে পরীক্ষা করা। আর্চারের ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতির বাউন্সারে গ্লাভসে লেগে বল উইকেটরক্ষক জস বাটলারের হাতে গেলে ১৩ রান করে ফেরেন সূর্যবংশী।

পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই আর্চারের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন তিলক বর্মা। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৫ উইকেট হারাল ভারত।

এরপর ম্যাচটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। আদিল রশিদ দুটি এবং উইল জ্যাকস একটি উইকেট নেন। অন্যদিকে নিজের ঘরের মাঠে টাং ক্যারিয়ারের সেরা টি-টোয়েন্টি বোলিং ফিগার (৪-২৮) গড়ে ভারতের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেন।

ম্যাচে একটি মজার ঘটনাও ঘটে। আর্শদীপ সিং টাংয়ের বলে সহজ একটি ক্যাচ তুললেও স্যাম কারান ও জস বাটলার দুজনই একে অপরের জন্য ছেড়ে দেওয়ায় বল মাটিতে পড়ে যায়। তবে সেটিই ছিল পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ডের একমাত্র ভুল।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও ফিল সল্টের দারুণ ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড। ৪৪ বলে ৭০ রান করেন এই ওপেনার। শুরুতে ১৯ বলে মাত্র ১৭ রান করলেও পরে গিয়ার বদলে দ্রুত রান তোলেন তিনি। বরুণ চক্রবর্তীর বলে একটি ছক্কা হাঁকানোর পরই নিজের ছন্দ ফিরে পান।

অধিনায়ক জস বাটলার ২১ বলে ৩৬ রান করে ফর্মে ফেরার আভাস দিলেও প্রিন্স যাদবের দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হন। একই বোলার ফেরান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককেও। পরে হর্ষিত রানা টানা দুই বলে জ্যাকব বেথেল ও টম ব্যান্টনকে ফিরিয়ে দিলে ১১তম ওভারে ১১১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।

সেই চাপ কাটিয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন সল্ট ও স্যাম কারান। পঞ্চম উইকেটে তারা ২৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন। সল্ট ৭০ রান করে ফিরলেও শেষ দিকে কারান ২৪ বলে অপরাজিত ৪১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। উইল জ্যাকসকে নিয়ে মাত্র ১৭ বলে আরও ৩৫ রান যোগ করে ইংল্যান্ডকে দুইশর গণ্ডি পার করান তিনি।

শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়ে ভারতকে ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় ইংল্যান্ড। এই জয়ে সিরিজে স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে স্বাগতিকরা, আর ভারতকে ফিরতে হলে বাকি দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।