১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৫

অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করলেই ইতিহাস বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজ হারালো বাংলাদেশ  © সংগৃহীত

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ঐতিহাসিক কীর্তি ইতোমধ্যেই গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। এবার লাল-সবুজ জার্সিধারীদের সামনে আরও বড় অর্জনের হাতছানি। 

আজ রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১১ টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিততে পারলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করার বিরল এক ইতিহাস গড়বে টাইগাররা।

ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে তিন বা ততোধিক ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করতে পেরেছে মাত্র তিনটি দেশ—ইংল্যান্ড (তিনবার), দক্ষিণ আফ্রিকা (দুবার) ও নিউজিল্যান্ড (একবার)। আজ জিতলে চতুর্থ দেশ হিসেবে এই অভিজাত তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ।

অজিদের বিপক্ষে অতীতে যতগুলো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, সবকটিতেই হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছিল। তবে ১৫ বছর পর ঘরের মাঠে তাদের মুখোমুখি হয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের ১৯১ রানে আটকে দিয়ে বড় জয়ের পর, দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন-মোস্তাফিজের আগুনঝরা বোলিংয়ে ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার শূন্য রানে প্রথম তিন উইকেট হারানোর লজ্জায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

শনিবার (১৩ জুন) ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে ওপেনার সৌম্য সরকার হোয়াইটওয়াশ করার তীব্র ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, ‘৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে এটি হবে আরও অনেক বড় অর্জন। আমাদের সবার লক্ষ্যও থাকবে এটা। আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।’

বাংলাদেশের সামনে যখন ইতিহাস গড়ার মহাসুযোগ, তখন অস্ট্রেলিয়া নামছে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে। সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গেলেও অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে ব্যবধান ২-১ করতে মরিয়া তারা। অজি ব্যাটার মার্নাস লাবুশেন বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য আদর্শ সিরিজ হয়নি। তবে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচই একটি সুযোগ। আমরা যা করছি, এটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ। আমরা চাই ভালো ক্রিকেট খেলে ভালোভাবে শেষ করতে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ হোক বা ২-১—হার তো হারই।’

তৃতীয় ম্যাচের আগে বাংলাদেশ শিবিরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এখন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের শারীরিক অবস্থা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাথান এলিসের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুটি স্ক্যানের রিপোর্টই স্বাভাবিক আসে। ইতোমধ্যে দলের সঙ্গে যোগও দিয়েছেন মিরাজ। তবে ম্যাচের আগে আরেক দফা মূল্যায়নের পরই তার খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, মিরাজের খেলার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। মিরাজ না খেললে তার বদলে দেখা যেতে পারে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে। যদিও আজ শনিবার বিকেলে তৃতীয় ওয়ানডের স্কোয়াডে ব্যাকআপ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসানকে।

হোয়াইটওয়াশ মিশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, দলের প্রায় সবাই দারুণ ছন্দে আছেন। পেসাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট এনে দিচ্ছেন, ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন। মোসাদ্দেক হোসেন দলে ফিরেই অবদান রেখেছেন, সৌম্য সরকারও সুযোগ পেয়ে রান করেছেন। ফলে জয়ী একাদশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। পরিবর্তন এলে সেটি সম্ভবত কেবল মিরাজের জায়গাতেই আসবে।

ইতিহাস গড়ার মিশনে মাত্র একটি জয় দূরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। কাল মিরপুরের চেনা উইকেটে ৩-০ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে স্তব্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন এক সোনালী অধ্যায় রচনা করতে পারেন কি না শান্ত-সৌম্যরা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার উপাত্তার বাটার মানাস লাবুসেন চান শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশের এড়াতে, 'পাতটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা নিশ্চিত করব সেরাটা দিয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে শেষ করার।