ঐতিহাসিক সিরিজ জিততে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ
বৃষ্টির কারণে খেলা অনেকটা সময় বন্ধ থাকার পর ওভার কমিয়ে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪১ ওভারে স্বাগতিকদের সামনে ১৯২ রানের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে। ম্যাচ শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ৩ বাউন্ডারিতে ৮৫ বলে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন মার্নাস ল্যাবুশন।
ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতেই একের পর এক ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও ম্যাথু শর্টকে শূন্য রানে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র চতুর্থ বলেই ভেঙে যায় অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি।
দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই কুপার কনোলিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
চাপ আরও বাড়ান মুস্তাফিজই। পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ম্যাট রেনশ। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও বাংলাদেশ রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং রেনশ শূন্য রানে ফেরেন।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে কেরির বিদায়ে সপ্তম ওভারে। মুস্তাফিজের করা একটি বল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট ও ওয়াইড লেংথে পড়ে বাড়তি বাউন্স নেয়। কেরি সোজা ব্যাট চালিয়ে গ্যাপ খুঁজতে গিয়ে পয়েন্টে থাকা নাজমুল শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে ১৭ বলে ১৩ রানের মন্থর এক ইনিংস সাজান।
মাঝে জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে একটি সম্ভাবনাময় জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই আক্রমণে এসে ব্রেকথ্রু এনে দেন তানভীর আহমেদ। সেট হয়ে ওঠা ইংলিসকে আউট করে ম্যাচের গতি আবারও বাংলাদেশের দিকে ফিরিয়ে আনেন। ৩৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেই ফেরেন অজিদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।
পরের উইকেট নিতেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তানভিরের, আগের ম্যাচে ফিফটি করা ক্যামেরন গ্রিনকেও ফিরিয়ে দেন এই স্পিনার। ২ ছক্কা ও এক বাউন্ডারিতে ৫০ বলে ২৫ রান করেন এই ব্যাটার।
গ্রিনের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া যেন দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। সে সময়ে সফরকারীদের দুইশো রান করাও নিয়েও শঙ্কা জেগেছিল। তবে সেই চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব তুলে নেন বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। দেখেশুনে খেলে দুজনেই ফিফটিতে তুলে নেন। এই জুটির একশোও পেরিয়ে যায় একপর্যায়ে।
তবে সেই জুটি আর বড় হতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করে ভাঙেন জুটি। এরপর নতুন ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পাও এক বলের বেশি টিকতে পারেননি, তাসকিনের পরের বলে তিনিও বোল্ড হয়ে ফেরেন।
এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই বৃষ্টি নেমে আসে। এতে দ্রুতই পিচ ঢেকে ফেলা হয় কাভারে। বৃষ্টি খুব বেশি জোরে না হলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। মাঝে কিছু সময় বৃষ্টি থাকলে মাঠে প্রস্তুতির কাজে নেমেছিলেন মাঠকর্মীরা। তবে আবারও হঠাৎ করে নেমে আসে প্রাকৃতিক এই নিয়ামকের বাধা।
এবার অবশ্য বৃষ্টির বেগ অনেক বেশি ছিল। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টি একপর্যায়ে থামলেও আর মাঠে নামা হয়ে উঠেনি সফরকারীদের। ৪২ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৮৭ রান। পরে বৃষ্টি-আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৪১ ওভারের হবে ম্যাচটি। যেখানে তিনটি পাওয়ার প্লে প্রথমে ৮ ওভারে, দ্বিতীয়টি ৮ থেকে ২৫ ওভারে এবং তৃতীয়টি ২৬ থেকে ৪১ ওভারে। এ ছাড়া একজন বোলার সর্বোচ্চ ৯ ওভার বল করার সুযোগ পাবেন।