০৯ জুন ২০২৬, ১৮:৩৪

ঘরোয়া ক্রিকেটকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ বিজয়ের, ঝাড়লেন ক্ষোভ

এনামুল হক বিজয়  © সংগৃহীত

প্রায় ১৫ বছর পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া দলকে আতিথেয়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এই সিরিজের মাঝেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) শেষ রাউন্ডের ম্যাচও অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের দিনে রাখা হয়েছিল। তবে নানা সমালোচনার পর এই সূচি একদিন পিছিয়ে ১২ জুন নেওয়া হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঙ্গে ডিপিএলের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সকে অবমূল্যায়নের প্রবণতা দেখছেন এনামুল হক বিজয়। যদিও এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন এই ওপেনার।

ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বিজয় লিখেছেন, ‘আজকে দুটি কথা বলতে ইচ্ছা হলো, তাই লিখলাম। কেউ হয়ত একমত হবেন, কেউ না-ও হতে পারেন। তবে একটা বিষয় নিয়ে আমার নিজের কিছু ভাবনা আছে।’

বিজয় আরও লিখেছেন, ‘ডমেস্টিক ক্রিকেট কোনো বিচ্ছিন্ন জগৎ নয়, বরং জাতীয় দলের মূল চালিকাশক্তি ও প্রবেশদ্বার। এনসিএল, বিসিএল, বিপিএল কিংবা ডিপিএল- এই টুর্নামেন্টগুলোই একজন ক্রিকেটারের যোগ্যতা প্রমাণের আসল মঞ্চ। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে উঠে আসা তরুণ প্রতিভা, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া অভিজ্ঞ তারকা কিংবা একেবারে নতুন কোনো মুখ- সবার জন্যই পুনর্বাসন ও আত্মপ্রকাশের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম এই ঘরোয়া ক্রিকেট। এখানে বয়স বা নামের কোনো বিশেষ ছাড় নেই; বরং অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই নিজেকে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করতে হয়।’

এই ক্রিকেটার লিখেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ডমেস্টিক এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ধরনের কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব। মনে রাখা প্রয়োজন, আজকের আন্তর্জাতিক মহাতারকারাও একদিন এই ঘরোয়া ক্রিকেটের কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই উঠে এসেছেন।’

বিজয়ের ভাষ্য, ‘কেউ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যর্থ হলে কিংবা কেউ প্রথম সুযোগেই সফল হলে- উভয় ক্ষেত্রেই পথচলার শুরুটা কিন্তু একই কাঠামো থেকে হয়। তাই ডমেস্টিক ক্রিকেটকে খাটো করে দেখার অর্থ হলো সামগ্রিক ক্রিকেট কাঠামোকেই দুর্বল করা। একে কেবল কয়েকটি ম্যাচের সমষ্টি না ভেবে, দেশের ক্রিকেটের মূল ভিত্তি হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ এখানেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনা হয়, প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা হয় এবং এখান থেকেই খুলে যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল দরজা।’