মোসাদ্দেকের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি বাংলাদেশের
প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি স্মরণীয়ই করে রাখলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে তিনি পাঁচ বছর পর ওয়ানডেতে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এটি এই ফরম্যাটে তার চতুর্থ ফিফটি। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি; প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসও।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ৭০ বলে সর্বোচ্চ ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন।
ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নাথান এলিসের করা ওই ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল অফ স্ট্যাম্পের কাছাকাছি ফুল লেংথ ডেলিভারি, যা পিচে পড়ার পর হঠাৎ বাইরে সরে যায়। ড্রাইভ করতে গিয়ে সাইফের ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় স্লিপে। সেখানে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন লাবুশেন।
দ্রুত উইকেট হারালেও তানজিদ তামিমকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন শান্ত। দুজনে মিলে গড়ে তোলেন ৯০’র বেশি রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। পরে তানজিদ ফিফটি তুলে নিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, ৫৪ রান করেই ফেরেন।
তানজিদের বিদায়ের পর লিটন দাসকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত। এরই মাঝে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তবে লিটন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ম্যাট রেনশর বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ফলো থ্রুতে সহজ ক্যাচ নেন রেনশ, ৯ বলে ৭ রান করে আউট হন লিটন।
লিটনের বিদায়ের পর কিছুটা চাপের মধ্যেই খেলছিলেন নাজমুল। শেষপর্যন্ত তিনিও সাজঘরের পথ ধরেন, ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে ৬৭ রান এসেছিল।
মাঝে তাওহীদ হৃদয়ের নড়বড়ে ইনিংসও বেশি দূর এগোয়নি। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকলেও তিনি স্বস্তিতে ছিলেন না এই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান; শুরু থেকেই টাইমিং খুঁজে পেতে ভুগছিলেন।
জেভিয়ার বার্টলেটের আগের বলে অল্পের জন্য ক্যাচ না হলেও, পরের বলেই স্লোয়ার ডেলিভারিতে তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে নাথান এলিসের হাতে ধরা পড়েন হৃদয়। ভোগান্তির এই ইনিংসে ৫১ বলে ১ চারসহ ৩১ রান করেন হৃদয়।
এরপর বেশি সময় টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। পরের বলেই শাফল করে লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হন তিনি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর রিভিউ নিলেও ফল বদলায়নি। ১২ বল খেলে মাত্র ৩ রান করে ফিরতে হয় তাকে।
তবে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলেই চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরেই অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। ৩ ছক্কা ও ৭ চারে ৭০ বলে ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস এটি। এ ছাড়া ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ১৬ বলে ২০ রান করা তাসকিন। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই শেষ ১০ ওভারে ৭১ রানের সুবাদে লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।