০৭ জুন ২০২৬, ১৮:৩০

সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেলেন তামিম ইকবাল, হারলেন আমজাদ-ইমরোজরা

তামিম ইকবাল  © সংগৃহীত

নিরুত্তাপ এক আমেজেই পর্দা নামল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের। যেখানে চূড়ান্ত ফলাফলে প্রত্যাশিত প্রার্থীরাই শেষমেশ বিজয়ী হয়েছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় শেষ হয় ভোটগ্রহণ। পরে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বিরতিহীনভাবে চলেছে ভোট গণনা। 

সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন শুরু হলেও সকালের দিকে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি ছিল না। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। যদিও প্রথম ভোট পড়তে সময় লেগেছিল প্রায় ৪৫ মিনিট।

৮ মাসের ব্যবধানে ক্রিকেট বোর্ডের দ্বিতীয় নির্বাচন এটি। এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটির নির্বাচন হয়েছিল। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির কমিটি ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একইদিন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।

এদিকে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া পরিচালকদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মূলত ক্যাটাগরি-১ ও ক্যাটাগরি-২'তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 

এর মধ্যে জেলা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরি, বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, ঠাঁকুরগাও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মির্জা ফয়সল আমীন নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগ থেকে সাইদ বিন জামান এবং এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ক্যাটাগরি-৩ থেকে একাই মনোনয়ন দাখিল করে বৈধতা নিয়ে সিরাজউদ্দি মো. আলমগীর পরিচালক নির্বাচিত হন।

এদিকে, ঢাকার ক্লাব থেকে মনোনয়ন উত্তোলন ও প্রত্যাহার শেষে ১৬ জনের প্রার্থিতা বহাল ছিল। তারা হলেন তামিম ইকবাল (ওল্ডডিওএইচএস), ফাহিম সিনহা (আবাহনী), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান), রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), ইসরাফিল খসরু (এক্সিয়ম ক্রিকেটার্স), মীর্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং), শানিয়ান তানিম (মেরিনার্স ইয়াংস), আমজাদ হোসেন (ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁ ক্রিকেট একাডেমি), সাকিফ আহমেদ সালাম (পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব), আসিফ রাব্বানী (শাইনপুকুর), ফায়াজুর রহমান মিতু (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব), অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব হোসেন শামিম (ঢাকা ওয়ান্ডরার্স ক্লাব), মেজর ইমরোজ (কাঠালবাগান ক্রিসেন্ট ক্লাব), ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব)।

এর মধ্যে পরিচালক পদে আমজাদ হোসেন, ফায়াজুর রহমান মিতু, মেজর ইমরোজ এবং সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু নির্বাচনী যুদ্ধে শেষমেশ হেরে গেছেন। হেরে যাওয়া ৪ প্রার্থী পাপ্পু ৪০ ভোট, আমজাদ ৩২, ফয়জুর ২৩ ও ইমরোজ আহমেদ ২০টি ভোট পেয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে জিতেছেন। পরিচালকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। এ ছাড়া সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির ৬৮ ভোট পেয়েছেন।

এ ছাড়া ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩, রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন। ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়।

চলমান নির্বাচনে ই-ভোট প্রদান করেন ৩৯ জন। ই-ভোট জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল রবিবার, দুপুর ১টা পর্যন্ত। জানা গেছে, পরিচালক পদের ফলাফল প্রকাশের পর ৭টায় তাদের ভোটাভুটিতে অনুষ্ঠিত হবে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন।