২০ মে ২০২৬, ১২:০৭

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে টপকে ৫ নম্বরে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল  © আইসিসি

মিরপুর টেস্টের দুর্দান্ত সাফল্যের পর সিলেটেও নিজেদের দাপট ধরে রেখে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও সমাপনী টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের গৌরব অর্জন করল টাইগাররা। এর মাধ্যমে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকেও পেছনে ফেলল বাংলাদেশ।

দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেট দলকে হোয়াইটওয়াশ করার অনন্য এক কীর্তি গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয়ের ফলে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ভারতকে টপকে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় ৫ নম্বরে উঠে এলো টাইগাররা। ভারতের পয়েন্ট এখন ৫২। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে সফরকারী পাকিস্তান ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছিল। ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের সমীকরণটি ছিল নাটকীয়; যেখানে ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩টি উইকেট, আর অসম্ভবকে সম্ভব করতে পাকিস্তানের দরকার ছিল আরও ১২০ রান।

পঞ্চম ও শেষ দিনের সকালে পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস মেরামতের লক্ষ্যে ক্রিজে আসেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই প্রতিরোধ ভাঙার একটি মোক্ষম সুযোগ তৈরি করেছিলেন পেসার নাহিদ রানা। তাঁর বলে রিজওয়ান স্লিপে ক্যাচ তুলে দিলেও তা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন মেহেদী হাসান মিরাজ।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

জীবন পাওয়ার পর সাজিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রিজওয়ান। অষ্টম উইকেটে এই দুই ব্যাটার দ্রুত পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটি পার করে পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। তবে সফরকারীদের সেই স্বপ্নে পানি ঢেলে দেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ৩৬ বলে ২৮ রান করা সাজিদ খানকে সাজঘরে ফিরিয়ে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন তিনি। 

সাজিদকে আউট করার পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারে আরও একবার নিজের পাঁচ উইকেট (ফাইফার) শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। শেষ পর্যন্ত তাইজুলের এই স্পিন ঘূর্ণিতেই পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং ঐতিহাসিক জয় উদযাপনে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।