১২ মে ২০২৬, ১৭:১৩

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

বাংলাদেশ দলের উদযাপন  © সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্টে জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। মিরপুরে ঐতিহাসিক এই জয় দেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়েই থাকবে। 

পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৬৮ রান। তবে টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা। এতে মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় দ্য গ্রিন ম্যানদের দ্বিতীয় ইনিংস। আর ১০৪ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এই জয়ের নায়ক তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দুর্দান্ত গতি ও নিখুঁত লাইন-লেংথে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে এলোমেলো করে দেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রান খরচায় তুলে নেন ৫ উইকেট, তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং এটি। 

মঙ্গলবার (১২ মে) লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে মাত্র ২ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ইমাম-উল-হক। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মেহেদী মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস, করেন মাত্র ১৫ রান।

বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক শান মাসুদও। নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় লিটনের গ্লাভসে, ২ রানেই বিদায় নেন তিনি।

তবে চতুর্থ উইকেটে আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজন মিলে যোগ করেন ৫১ রান। কিন্তু ফিফটি তুলে নেওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। ১১৩ বলে ১১ চারে ৬৬ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই সালমান আগাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ফেরার আগে ৩৯ বলে ২৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

ষষ্ঠ উইকেটে দলকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু এই দুই ব্যাটারকেই ফেরান নাহিদ রানা। তার বলটি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করে বেরিয়ে যাচ্ছিল, তাতে ড্রাইভ খেলতে চেয়েছিলেন শাকিল। কিন্তু ব্যাটের কোনায় লেগে বল লিটনের হাতে চলে যায়। পরের ওভারেই রানার ১৪৭ কি.মি. গতির ইন-সুইঙ্গারে লাইন মিস করে বোল্ড হন রিজওয়ান। 

এরপরে তাইজুলের আর্ম বল বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন হাসান আলী। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।

পাকিস্তানের শেষ দুটি উইকেটও নিজের ঝুলিতে পুরেন নাহিদ। নোমাল আলিকে বোকা বানানোর পর শাহিন শাহর উইকেটও ছিনিয়ে নেন গতিময় এই পেসার। তাকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার তুলে নেন নাহিদ। তার এমন কীর্তিতে বাংলাদেশও ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়।

এর আগে, চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক শান্ত ৫৮ ও মুশফিক ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।তবে পঞ্চম দিনে শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন ১১, মেহেদী মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩ ও তাসকিন আহমেদ ১১ রান করে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া চতুর্থ দিনে মাহমুদুল জয় ৫, সাদমান ১০ ও মুমিনুল ৫৬ রান করেছিলেন।

এরও আগে, বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করার পর জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছিল।