১০ মে ২০২৬, ১৭:৪৩

পাকিস্তানের ইনিংসে ধস, লিড বাংলাদেশের

পাবিস্তান ব্যাটারকে ফিরিয়ে টােইগার শিবিরে উল্লাস  © সংগৃহীত

দারুণ শুরু আর তিনটি শতরানের জুটির পরও ইনিংসের শেষভাগে বড় ধস নেমেছিল পাকিস্তানের। ৫ উইকেটে ৩৪৯ রান থেকে শেষ ৫ উইকেট হারায় মাত্র ৩৭ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা অলআউট হয় ৩৮৬ রানে।

অভিষেক ম্যাচে আজান আওয়াইজ খেলেছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ইনিংস। এ ছাড়া আব্দুল্লাহ ফাজাল, সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান পেয়েছেন অর্ধশতক। তবে শক্ত অবস্থান থেকেও বড় সংগ্রহ গড়া হয়নি পাকিস্তানের।

বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসের শেষ উইকেটটি নেন তাইজুল ইসলাম। হাসান আলিকে বোল্ড করে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি। ১০০ দশমিক ৩ ওভারে পাকিস্তান থামে ৩৮৬ রানে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তুলেছিল ৪১৩ রান। ফলে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেল স্বাগতিকরা।

রবিবার (১০ মে) তৃতীয় দিনের শুরুতেও আগের দিনের দাপট জিইয়ে রেখেছিল সফরকারীরা। এতে সেঞ্চুরির জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আজান আওয়াইসের। ৮৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই বাঁহাতি ব্যাটার পঞ্চম ওভারেই পৌঁছে যান তিন অঙ্কের মাইলফলকে। নাহিদ রানার করা ৫১তম ওভারের পঞ্চম বলে এক রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ১৫৩ বলে সাজানো এই দারুণ ইনিংসে ছিল ১৪টি চারের মার। 

তবে প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টার শেষদিকে পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। এই পেসারের শিকার বনে ১৬৫ বলে ১০৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন আওয়াইস।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও। মাত্র ৯ রান করে তাসকিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সৌদ শাকিলকে। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন এই ব্যাটার।

এরপরে মিরাজের হাত ধরে উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া আবদুল্লাহ ফজল থেকেও ‘মুক্তি’ পায় স্বাগতিকরা। মিরাজের বল মিড অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ত্রিশ গজের ভেতরে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দেন ফজল। অভিষেকে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান ফেরেন ১২০ বলে ৬০ রান করে।

এরপর পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘা। একবার তাসকিন আহমেদের বলে আউট হলেও নো বলের কারণে জীবন পান সালমান। এরপর আর কোনো উইকেট না হারিয়ে লাঞ্চ পর্যন্ত খেলে পাকিস্তান।

মধ্যাহ্নভোজের পরও অনেকটা সময় রিজওয়ান ও সালমানের দাপট চলেছে। তবে, ফিফটি ছুঁয়ে ফেলার পর তাইজুল ইসলাম আক্রমণে আসতেই যেন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন রিজওয়ান। অনেকটা বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে বলটিকে আকাশে ভাসিয়ে দেন, কিন্তু ভাগ্যক্রমে তখন আশেপাশে কোনো ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান তিনি।

তবে বেশি সময় টিকতে পারেননি। পরের বলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। মিড অফে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে রিজওয়ানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মাহমুদুল হাসান জয়। এবারও তিনি অনেকটা এগিয়ে এসে মিড অফের ওপর দিয়ে বল পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শটটি ঠিকভাবে টাইম করতে ব্যর্থ হন। এতে ভেঙে যায় ১৫৭ বলে গড়া ১১৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

এরপরই যেন ম্যাচের ছন্দ থমকে যায়। হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি হলেও দ্রুতই আকাশ ভারী কালো মেঘে ঢেকে যায়, আর পুরো মিরপুর স্টেডিয়াম অন্ধকারে ঢেকে পড়ে, দুপুর যেন হঠাৎই সন্ধ্যায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।

তবে বৃষ্টি বাগড়ার পর আর স্বস্তি পায়নি পাকিস্তান। মিরাজের ঘূর্ণি আর নাহিদ রানার গতিতে পরাস্ত হয় দ্য গ্রিন ম্যান শিবির। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে সালমান আলি আগা ৯৪ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৫৮ রান। এ ছাড়া নোমান আলি ২, শাহিন আফ্রিদি ১৩ ও হাসান আলি ৬ রানে আউট হন। মোহাম্মদ আব্বাস অপরাজিত ছিলেন ৬ রানে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৮ ওভারে ৫ মেডেনসহ ১০২ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৫ উইকেট। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট পান নাহিদ রানা।