০৯ মে ২০২৬, ১৪:০২

চার শ’ পেরিয়ে থামল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস

মুশফিকুর রহিম  © সংগৃহীত

দলীয় ৩৮৪ রানে নবম উইকেট হারানোর পর ৪০০ রান ছোঁয়া বেশ কঠিনই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ জুটিতে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। রক্ষণাত্মক না হয়ে আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন তাসকিন। ১১৫তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের দ্বিতীয় বলটি সোজা স্ট্রেট ড্রাইভে গ্যালারিতে পাঠান তিনি। তাসকিনের সেই ছক্কাতেই ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে বাংলাদেশ। তবে এরপর আর বেশিদূর এগোয়নি স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ড। ১৯ বলে ২৮ রানে তাসকিনের ঝোড়ো ইনিংসের পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে ৪১৩ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংসও।

শনিবার (৯ মে) মিরপুরে দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টাতে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম মিলে দারুণ একটি জুটি গড়ে তুলেছিলেন। তবে ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন। একবার ভাগ্যের সহায়তায় বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। ৬৭ বলে ৫ চারে ৩৩ রান করেই সাজঘরে ফেরেন। 

লিটনের পর সাজঘরের পথ ধরেন মেহেদী মিরাজও। ছক্কা মারার পরের বলেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন তিনি। ১২ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১০ রান করেন মিরাজ।

এরপর ক্রিজে এসে একেবারে স্বীকৃত ব্যাটারের ন্যায় বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছড়ান তাইজুল ইসলাম। তবে আব্বাস আফ্রিদিকে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপার রিজওয়ানকে ক্যাচ দেন ২৩ বলে ১৭ রান করা তাইজুল।

লেজের সারির এবাদতকে নিয়ে বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন মুশফিক। তবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে ফেরার পর ঠিক কী ঘটছে, তা হয়তো বুঝে উঠার আগেই নিজের উইকেট খুইয়ে ফেলেন মুশফিক। মাঠের ভক্ত-সমর্থকরা প্রত্যাশা করেছিলেন, তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারও ছুঁয়ে নেবেন মুশি। তবে শেষমেশ জন্মদিনের বিশেষত ম্যাজিক সেই অঙ্কে রঙিন হয়নি।

৭১ রানে থাকা অবস্থায় দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তাকে বোল্ড করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১১০তম ওভারের তৃতীয় বলে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা আফ্রিদির বলটি ভেতরে ঢুকে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি মুশফিক। ১৭৯ বল মোকাবিলায় ৭১ রান করে শেষ হয় তার ইনিংস।

পরের ওভারের পঞ্চম বলে এবাদতকে (০) রিজওয়ানের ক্যাচ বানান আব্বাস। এই ইনিংসে আব্বাসের পঞ্চম উইকেট এটি।

এবাদতের বিদায়ে বাংলাদেশের চার শ’ পেরোনো নিয়েও সংশয় জেগেছিল। কিন্তু তাসকিনের মারমুখো ব্যাটিংয়ে কেটে যায় সেই শঙ্কার মেঘ। ১১৫তম ওভারে আব্বাসের দ্বিতীয় বলে স্ট্রেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে দলীয় স্কোর চার শ' পার করেন তাসকিন। তবে ইনিংসের ১১৮তম ওভারে অফ-স্ট্যাম্পের ওপর শাহিনের লেন্থ ডেলিভারিতে সেকেন্ড স্লিপে সৌদ শাকিলের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ১৯ বলে ২৮ রানে তাসকিনের বিদায়ে ৪১৩ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদ রানা।

পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার মোহাম্মদ আব্বাস। ৩৪ ওভার বোলিং করে ৯২ রানে ৫ উইকেট নেন। এর মধ্যে ৪টি উইকেটই আজ নেন। তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার এটি। এ ছাড়া শাহিন শাহ তিনটি এবং নোমান আলি ও হাসান আলি একটি করে উইকেট নিয়েছেন।