০৩ মে ২০২৬, ১৯:৩৯

যে শর্তে দেশে ফিরতে চান সাকিব

সাকিব আল হাসান   © সংগৃহীত

প্রায় দুই বছর ধরেই দেশে ফেরার প্রত্যাশায় সাকিব আল হাসান। সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে, এর মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্ট খেলার পর আর বাংলাদেশের জার্সিতে দেখা যায়নি এই অলরাউন্ডারকে।

সম্প্রতি আবারও তার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি প্রথমে বিষয়টি সামনে এনেছিল। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর সেই কমিটির আর অস্তিত্ব নেই। বর্তমানে ১১ সদস্যের একটি অ্যাড-হক কমিটি বিসিবির দায়িত্বে রয়েছে, এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তামিম ইকবাল।

দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাকিব। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার ইচ্ছা তার শতভাগ রয়েছে।

সাকিব বলেছেন, ‘(ফেরার ব্যাপারে) আমার সঙ্গে যোগাযোগ করত বোর্ড। বোর্ড কার সঙ্গে যোগাযোগ করত, এটা তো আসলে আমার পক্ষে বলা মুশকিল। তারা কীভাবে চেষ্টা করছে, কী কী করবে, কীভাবে আনতে চায় দেশে, এগুলোই বলত। বাংলাদেশে তো সবই বাস্তব এবং সবই অবাস্তব। বাস্তব করতে চাইলেই বাস্তব হয়, আর বাস্তব না করতে চাইলেই বাস্তব না। শুনলে তো মনে হয় সবই বাস্তব! কিন্তু কিছু না হওয়া পর্যন্ত বাস্তব না কোনোটিই।’

সাবেক বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবরের সঙ্গে আলোচনা সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক আগে থেকে। সেটা মানে ৫ আগস্টের আগে ছিল, তার আগেও ছিল। ২০০৭ থেকেই সম্ভবত তার সঙ্গে আমার পরিচয়। জাতীয় দলে ঢোকার কিছুদিন পর থেকেই। ওই পরিচয়টা তো ছিলই। ফেরার ব্যাপারেও উনিই যোগাযোগ রাখছিলেন আমার সঙ্গে। উনি তো অনেক কথা অনেকবার বলছে। এগুলো নিয়ে আমি আসলে পড়ে থাকি না। একেকজনের কথা একেক সময় একেক রকম হয়। আজকে যে ভালো বলে, কালকে সে-ই খারাপ বলে। পরশু সেই লোক আবার ভালো বলে। এগুলো নিয়ে আসলে খুব বেশি মাথা ঘামানোর দরকার আছে বলে মনে করি না।’

লন্ডনে দুজনের একসঙ্গে কেক কাটা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘ওটা আসলে একদমই কাকতালীয়ভাবে মিলে গিয়েছিল। আমি লন্ডনে যাচ্ছিলাম, উনার একদিন আগে বোধ-হয় পৌঁছেছি বা উনি একদিন আগে গিয়েছেন, এরকম ব্যাপার ছিল। ওই সময় কথা যেহেতু নিয়মিত হচ্ছিল, জানলাম যে উনিও যাচ্ছেন, তখন দেখা হয়েছে আর কী। পূর্ব পরিকল্পিত কিছু নয়।’ 

বিসিবির ঘোষণায় সাকিবের শর্তসাপেক্ষে ফেরার ব্যাপারটি নিয়ে সাকিব বলেন, ‘শর্তসাপেক্ষ বলতে কী, আমি জানি না। কারণ, আমাকে তো কোনো শর্ত আমাকে দেয়নি! (সাকিবের ‘অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি খেলা হবে যেখানে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে’) এসব বাস্তবতা তো ওই বোর্ড মিটিংয়ের আগেও ছিল!’