৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১২

সাকিবের প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে মাশরাফি ও দুর্জয়কেও স্মরণের আহ্বান তামিমের

সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল   © সংগৃহীত

দেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে গেল দেড় বছর ধরেই আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। যদিও সাকিবের সঙ্গে সাবেক আরও দুই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও একই পরিস্থিতির শিকার। তবে সাকিব মাঠে ক্রিকেটে ফিরতে চাওয়ায় আলোচনার পুরোটা জুড়েই আছেন। অন্য দু’জন ২২ গজে নিয়মিত না থাকায় হয়তো সেভাবে আলোচনায় আসেননি।

গত জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুর দুর্জয়। সে সময়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্যদিকে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই লোকচক্ষুর অন্তরালে আছেন নড়াইল-২ আসনের দু’বারের সংসদ সদস্য মাশরাফি।

৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ওই বছরের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিদায়ী টেস্ট খেলার কথা থাকলেও দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে। সবমিলিয়ে নানা জটিলতা ও পরিস্থিতির কারণে সেই ফেরা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে নানা সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সাবেক বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার বলেছেন, দেশের মাঠ থেকেই ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চান তিনি।

সবচেয়ে বড় কথা, এখনও খেলছেন সাকিব, যা অন্য দু’জনের সঙ্গে তার বড় পার্থক্য। মাশরাফির জাতীয় দলের ক্যারিয়ার শেষ, আর অনেক আগেই ক্রিকেট ছাড়েন দুর্জয়। তাই ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনেই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় সাকিবের প্রত্যাবর্তন। এ ছাড়া সাবেক দুই অধিনায়ক ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি থাকাকালে বিষয়টি নিয়ে প্রবল আলোচনায় ছিল। গত জানুয়ারিতেও শর্তসাপেক্ষে সাকিবকে দলে বিবেচনার কথা বলা হয়েছিল, তবে অজানা কোনো কারণে তা অগ্রগতি হয়নি। পরে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবাল দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও স্তিমিত হয়ে পড়ে বিষয়টি।

যদিও সাবেক এই অধিনায়ক দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে হলো প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। সেখানেই সাকিবের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে দুর্জয়-মাশরাফির প্রসঙ্গও তুললেন তামিম। বিসিবিপ্রধান স্মরণ করিয়ে দেন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছেন আরও দুজন সাবেক অধিনায়ক—মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তবে এই তিনজনের আইনি বিষয়ে বোর্ডের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।

তামিমের ভাষ্যমতে, ‘আমি আমার অবস্থান থেকে একটা জিনিস আপনাদেরকে অনুরোধ করতে চাই যে, গত এক-দেড়-দুই বছর ধরে একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটরকে ক্রিকেটারকে নিয়েই, যদি নাম বলতে হয়, সাকিবকে নিয়েই আমরা কথা বলছি। আমার অনুরোধ, যখন এই প্রশ্নটা করেন আমাদের তিনজন ক্রিকেটার, তিনজন সাবেক অধিনায়ক, সাকিবের সঙ্গে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছে। কাজেই শুধু একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে কথা বলা আমার জায়গা থেকে ঠিক নয়। আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা যখন প্রশ্ন করব, আপনারাও যখন প্রশ্ন করবেন, দয়া করে নিশ্চিত করবেন যে, অন্য দুজন অধিনায়কের নামও উল্লেখ করছেন।’

বোর্ডের আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বললেন, ক্রিকেটীয় দিক থেকে তিনজনকেই আলিঙ্গন করে নিতে তারা তৈরি।

তামিমের ভাষ্য, ‘আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা বা যে কোন কিছু করার, আমরা তাদেরকে দু হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাব। আইনগত যে জিনিসগুলো আছে, আমাদের মন্ত্রী সাহেবও বলেছেন যে, এটার প্রতি আমরা নমনীয় হব, উনার তরফ থেকে বলেছেন। ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটীয় যেসব জিনিসে আমরা সহায়তা করতে পারি, আমরা সবসময়ই তাদেরকে খোলা মনে স্বাগত জানাতে তৈরি, যদি উনাদের ওই সমস্যাগুলো উনারা সমাধান করে আসেন।’