আইপিএল নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল, জানাল তথ্য মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ‘আইপিএল সম্প্রচারে কোনো বাধা নেই’ শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের কাছে আইপিএল দেখানোর ব্যাপারে কোনো আবেদন নিয়ে কেউ আসেনি। খেলাধুলা নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। কোনো চ্যানেল যদি আইপিএল দেখানোর জন্য আমাদের কাছে আবেদন করে আমরা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করব।’
তবে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এবার প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। যেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধে বিগত সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে প্রকাশিত/প্রচারিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংবাদটি আমাদের গোচরে এসেছে। আইপিএল প্রচার বন্ধের বিষয়ে বিগত সরকারের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতামত ও পরামর্শ চেয়ে পত্র প্রদান করেছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।’
প্রসঙ্গত, মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার পর আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সে সময়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই এবং এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে।’
মূলত নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাঁ-হাতি এই পেসারকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয় বিসিসিআই। যদিও নিলামে ২ কোটি রুপির দ্য ফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে টেনেছিল কলকাতা। কিন্তু ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে জলঘোলা করে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় কেকেআর। এরপর যা ঘটেছে, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে যায়নি বাংলাদেশ।