১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৮

বাংলাদেশকে বড় সুসংবাদ দিল আইসিসি

আইসিসি ও বিসিবি'র লোগো  © সংগৃহীতন

২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে নতুন করে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুই দিন আগে লাহোরে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন ইঙ্গিত দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। একই সঙ্গে জানানো হয়, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। 

এ নিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর মাঝে পারস্পরিক উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এই আলোচনায় আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক বিষয় উঠে আসে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করলেও, ক্রিকেটের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবিকে একটি মূল্যবান পূর্ণ সদস্য হিসেবে পুনরায় স্বীকৃতি দিয়েছে - যাদের গৌরবময় ক্রিকেট ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইসিসি আরও নিশ্চিত করেছে যে, বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজার, যেখানে ২০ কোটিরও বেশি উচ্ছ্বসিত ক্রিকেট সমর্থক রয়েছেন, সেখানে ক্রিকেটের বিকাশে তারা তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, যাতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।’

এতে সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘নিচে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো। এগুলো পারস্পরিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে গৃহীত ভবিষ্যতমুখী সমঝোতাকে প্রতিফলিত করে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে। তবে এসব সিদ্ধান্ত আইসিসির সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন, শাসন কাঠামো কিংবা বিদ্যমান সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই পরিবর্তন, সীমিত বা ক্ষুণ্ন করে না - সবকিছু আগের মতোই কার্যকর থাকবে।’

বিসিবির ওপর কোনো জরিমানা বা শাস্তি নয় উল্লেখ করে আইসিসি আরও জানায়, ‘এই বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তি আরোপ করা হবে না - এমন সিদ্ধান্তে সবাই একমত হয়েছেন। বর্তমান আইসিসি বিধি অনুযায়ী, চাইলে বিসিবি ডিসপিউট রেজুলিউশন কমিটির (ডিআরসি) শরণাপন্ন হতে পারবে - এ অধিকার বহাল থাকবে। আইসিসির এই অবস্থান নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শাস্তির পরিবর্তে সহায়ক ভূমিকা রাখার অভিন্ন লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।’

২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ আরও বলা হয়েছে, ‘সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০৩১-এর আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে। তবে এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্ত সাপেক্ষে কার্যকর হবে। এটি আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর আইসিসির আস্থার প্রতিফলন এবং সদস্য দেশগুলোতে ক্রিকেটের উন্নয়নে অর্থবহ আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করবে।’