০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০

রাজধানীতে ছয় রুটে আজ থেকে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু

গণপরিবহন  © সংগৃহীত

রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় আজ রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। আজ রবিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

প্রাথমিকভাবে ছয়টি কোম্পানির অধীনে এসব রুটে ৮১৬টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বাস রুট রেশনালাইজেশনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা এখনই চালু হচ্ছে না। আপাতত এটিকে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকারি কর্তৃপক্ষ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয়টি কোম্পানি চারটি রুটে নন-এসি বাস এবং দুটি রুটে নন-এসি ও এসি বাস পরিচালনা করবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন পদ্ধতিতে একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস চলাচলের কথা। এ ব্যবস্থায় একই রুটের সব বাস একটি কোম্পানির আওতায় পরিচালিত হবে। আর বাসমালিকেরা নিজ নিজ বিনিয়োগের অনুপাতে আয় পাবেন।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস চালাবে ভিআইপি পরিবহন বাস কোম্পানি। মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার রুটে ১৩৩টি বাস পরিচালনা করবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি।

এ ছাড়া ঘাটারচর থেকে ডেমরা পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার রুটে ৭০টি বাস চালাবে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার রুটে ১৫০টি বাস পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ফোর স্টার বাস লাইন। ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রুটে ১৯০টি বাস চালাবে পিএনপি সিটি সার্ভিস। অন্যদিকে টঙ্গী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ রুটে বাস পরিচালনা করবে ঢাকা চাকা।

প্রস্তাবিত এসব রুটের কয়েকটিতে বর্তমানে একাধিক পরিবহন কোম্পানির বাস চলাচল করছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ভিআইপি, বিকাশ, দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, রজনীগন্ধা, মালঞ্চ, সময়, মিডলাইন, পরিস্থান ও প্রজাপতি পরিবহন।

এর আগে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ চালু করা হয়েছিল। তখন ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে ১৫৫টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও শুরু হয়েছিল মাত্র ৫০টি বাস নিয়ে। একই রুটে আগে থেকে চলাচল করা অন্য কোম্পানির বাস বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত নানা সংকটে লোকসানের মুখে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় উদ্যোগটি।

রাজধানীর ৯৮টি সচল বাস রুট সমন্বয় করে ৩২টি রুটে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটে পুরোনো বাসই চলবে। থাকছে না ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও। ফলে বিভিন্ন পরিবহনের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ভাড়া আদায়ে বিশৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার নিম্নমান কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই। শুরুতে নির্ধারিত সময়সূচি ও স্টপেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। পরে ই-টিকিটিং চালু করা হবে। প্রতিটি রুটে শ্রমিক সংগঠন ও অভিজ্ঞ চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে চালক ও সহকারীদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তাঁরা কোনোভাবে বঞ্চিত না হন।’