জাতীয় বেতন স্কেলের পে ফিক্সেশনে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত পে ফিক্সেশন করে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ কর্মচারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন অভিযোগ জানায় সংগঠনটি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, এজি অফিস ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পে ফিক্সেশনের নামে এ ধরনের অর্থ আদায় চলছে। দ্রুত বেতন নির্ধারণের আশায় অনেক কর্মচারী ধারদেনা করেও বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে হয়রানি ও সার্ভিস বুক হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষ গ্রহণের গোপন ভিডিও এবং বিকাশে টাকা লেনদেনের তথ্যচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিকার চেয়েছেন সাধারণ সরকারি কর্মচারীরা।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের প্রতিকূল আর্থিক পরিস্থিতি ও সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পে ফিক্সেশনের মতো নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, পে ফিক্সেশনের নামে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। যারা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা এই নবম পে স্কেল পেয়েছি টাকা দিয়ে পে ফিক্সেশন করার জন্য? নিরীহ সাধারণ কর্মচারীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করার জন্য? দুর্নীতিমুক্ত দপ্তর ও দেশ গড়তে হলে সরকারি খাত থেকেই দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের বিতাড়িত করতে হবে। তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাহলেই সরকারি খাতকে ঘুষমুক্ত করা সম্ভব হবে।
পে ফিক্সেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও জানায় সংগঠনটি।