২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩৮

স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তার শঙ্কায় গাজীপুর ছেড়েছেন রুমি

শাহজালাল রুমি  © সংগৃহীত

টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গাজীপুর ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে তার। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে তারা কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেখা যায়। ভবনটির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমান জানান, নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় গত দুই থেকে তিন দিন ধরে রুমি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না। মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর থেকেই পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কেয়ারটেকার বলেন, স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই বাসা ছেড়েছেন রুমি। তিনি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন বলে জানিয়ে গেছেন। ঘটনার কারণে শিশুটিও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রয়েছে বলে জানান হাবিবুর রহমান।

পেশায় ফেব্রিক ব্যবসায়ী শাহজালাল রুমি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি একাধিকবার ফেসবুক লাইভে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি মামলাগুলো ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট এই পুলিশ কর্মকর্তা