২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২

বট ফোর্সকে দিয়ে গালাগালির জন্য বিটিভিতে নামফলক বসিয়ে ছবি তোলা হয়েছে

রেজাউল করিম রনি  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একটি কক্ষে নিজের নামে নামফলক বসিয়ে ছবি তোলার মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো এবং বট ফোর্সকে দিয়ে গালাগালি করানোর অভিযোগ তুলেছেন কবি, চিন্তক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি। তিনি দাবি করেছেন, বিটিভিতে তার নামে কোনো ব্যক্তিগত কক্ষ নেই। একটি কক্ষে অন্যদের সঙ্গে অনিয়মিতভাবে বসে আলোচনা করার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তাকে বিটিভি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন রেজাউল করিম রনি। এ সময় তিনি দুটি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাও করেন।

ফেসবুক পোস্টে রনি লেখেন, ‘এই দেশে জাতীয় স্বার্থে আপনি কোনো কাজ করতে পারবেন না। আপনাকে সব কিছু করতে হবে জামায়াতী স্বার্থে। তাহলেই আপনি সঠিক এবং নিরপেক্ষ। নইলে যে কোনো মূল্যে আপনার চরিত্র হনন করা হবে। ৫ তারিখের পরে লীগের এই খাসলত তারা ভালোমতোই রপ্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই চরিত্র হননের জন্য এরা কিছু মিডিয়াও খুলে ফেলেছে। সেটা সমস্যা না। গোদের উপর ফোড়ার মতন এরা আবার ভুয়া তথ্য প্রতিষ্ঠার জন্য ফ্যাক্টচেক দোকানও খুলেছে। তেমনি একটি কুখ্যাত দোকান দি ডিসেন্ট। এমনই একটি মিডিয়া ওয়াদ্দা। এরা ভুয়া তথ্যের ভুয়া ফ্যাক্টচেক করে সারা দিন প্রচার করছে আমি বিটিভিতে নাকি একটি রুম নিজের নামে দখল করে নিছি। বিটিভিতে আমি নিয়মিত যাই শো করতে ৫ তারিখের পর থেকেই এবং বিটিভির কনটেন্ট উন্নত করার বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নিয়মিত পরামর্শ দিতে আসেন। তাদের মতন আমি অনিয়মিত যাই। পরামর্শ দেই। অনেকে বেসরকারী মিডিয়াও আমার পরামর্শ নেন এই বিষয়ে।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘একটা রুমে অনেকের সাথে আমরা অনিয়মিত ভাবে বসি কথা বলার জন্য। এটাকে তারা আমার বিটিভি দখল হিসেবে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। প্রমাণ হিসেবে একটা দেয়ালে আমার নামে ছবি হাজির করছে। আপনারা জানেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতিত ও গুপ্তরা একজোট হয়ে কাজ করে। এটা তাদের উতরামির বাই প্রোডাক্ট ছাড়া আর কিছু না।’

এই এক্টিভিস্ট বলেন, ‘এই গান্ডুগুলা একটা মিথ্যাও ঠিক মতন বলতে পারে না। আমি কোন পদে জয়েন করলে প্রথমে আমার নিয়োগ পত্র থাকবে। হোক স্থায়ী বা অস্থায়ী। নিয়োগ পত্র থাকবে এবং নামের সাথে পদবি থাকতো। শুধু নাম থাকে না। বিটিভির প্রতিটি নামফলকে পদবি সহ দেয়া আছে। শুধু আমার নামটাই পদবি ছাড়া। এই নামটাই তাদের কাছে আতঙ্ক। এতটা লুজার হওয়ার কি ঠিক হলো?’

তিনি আরও বলেন, তাদের সাংবাদিকতার প্রতিভা দেখে আমি টাসকিত। ডিসেন্ট বিরাট আবিষ্কার করে লিখেছে, ‘দ্য ডিসেন্ট নিশ্চিত হয়েছে ভাইরাল হওয়া ছবিটি বিটিভি ভবনে তোলা এবং সেখানে রেজাউল করিম রনি বসেন’। তার মানে প্রপাগান্ডা ও বট ফোর্সকে দিয়ে গালাগালির জন্য ছবি তুলেছে এই নামফলক বসিয়ে। এবং এটাকেই রনির বিটিভি দখল বলে প্রচার করছে। আমি আজও গিয়েছিলাম বিটিভিতে এবং কোনো নাম দেখি নাই। আমার নামে কোনো পারসোনাল রুম নাই। থাকলে নিদেন পক্ষে সেটার চাবি আমাকে দেওয়া হতো। অনেকের সাথে আমরা গেলে আমাদের কখনও ডিজির রুমে, তিনি ব্যস্ত থাকলে পাশের রুমে বসতে দেওয়া হয়। সেটাকেই আমার রুম বানিয়ে দিয়ে ডিজিকে ঘিরে অকথ্য সব প্রপাগান্ডা করছে এই চক্রটি।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন। তিনি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘বিটিভির কোন প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজন হলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্নজনকে দিয়ে সব সময়েই কাজ করানো হয়ে থাকে। আমাদের একটা প্রোগ্রামের রিসার্চের জন্য তাকে (রেজাউল করিম রনি) রাখা হয়েছে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। সে এখানে আসে, একটা রুমে পাঁচজন বসে, সেই রুমে সেও (রেজাউল করিম রনি) বসে। এটা কোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও না।’