১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৩

ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গেছে। ব্রেন স্টেশন-২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সরকার, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাইবারস্টেশন ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করেছে। এতে প্রায় সব ডোমেইনের ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া নাগরিকদের তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। তবে তথ্য ফাঁসের হার সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে। সাইবারস্টেশন জানিয়েছে, প্রতিবেদনে প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো ন্যূনতম হিসাব। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, ‘যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা প্রতিকারও করতে পারি না।’ তিনি বলেন, কোন কোন তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা চিহ্নিত করা গেলে অপরাধীরা সেগুলোর অপব্যবহার করার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। ব্রেন স্টেশন-২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস দেশের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ দেন।

অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক কৌশল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি ও তা মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন আলোচকেরা।