০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১২

পরের বছর যেন বলতে পারি—‘অন্তত একটি বিচারের অপেক্ষার অবসান হয়েছে’

আবরার ফাহাদ ও তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর আজ বুধবার (৭ অক্টোবর)। দেশজুড়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে বিচারিক আদালতে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এখনো মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

শহীদ আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেছেন, ‘আমাদের এখন শুধু চাওয়া একটাই। আগামী ৭ অক্টোবর যেন দেশের মানুষকে আর এই লজ্জা নিয়ে লিখতে না হয় যে, আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার এখনো শেষ হয়নি, রায় কার্যকর হয়নি। পরের বছর যেন আমরা বলতে পারি, অন্তত এই একটি বিচারের অপেক্ষার অবসান হয়েছে।’ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে আবরার ফাইয়াজ লেখেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর হয়ে গেল। সম্ভবত আমি বুয়েটে থাকা অবস্থায় এটাই শেষ অক্টোবর। আজ প্রায় পুরোদিনই রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একের পর এক সভা ও দোয়ার আয়োজন করতে দেখলাম আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘হঠাৎ মনে পড়ল ২০১৯ সালের কিছু কথা। একের পর এক আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছিল, আর ধীরে ধীরে মনে আশা জাগছিল, হয়ত বিচারটা পাবো। আব্বুকে তখন বলেছিলাম, মানুষের ক্ষোভের কারণে মনে হয় বিচারটা খুব দ্রুতই শেষ হবে। আব্বু বলেছিলেন, ‘না, ৫-৭ বছরের আগে বিচার শেষ হবে না।’ আমি তখন হিসাব করে দেখেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে আমার প্রায় ৭ বছর লাগবে। তাই অন্তত বের হওয়ার আগে বিচার শেষ হয়ে রায় কার্যকর হতে দেখব।’

আবরার ফাইয়াজ লিখেছেন, ‘অথচ আজ সেই ৭ বছরও পার হয়ে গেল। বিচার এখনো শেষ হয়নি। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিচার বিলম্বিত হতে পারে, এমনটা স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনেরও প্রায় ২৬ মাস হয়ে গেছে। একটি গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেছে। যারা আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মিছিল-মিটিং করেছে, হামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছে, তাদের অনেকেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে গিয়েছেন। ১৭ বছর ধরে যারা ভুক্তভোগী ছিল, তারাই এখন ক্ষমতার অংশ। ২১ জন আসামি এখনো কারাগারে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তারপরও মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় পড়ে আছে। সবকিছুর পরও একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, আর কতদিন? এই মামলারই বিচারের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ কিভাবে বিচার ব্যবস্থার উপরে আস্থা ফিরে পাবে?’

পোস্টের শেষাংশে আবরার ফাইয়াজ বলেন, ‘আমাদের এখন শুধু চাওয়া একটাই। আগামী ৭ অক্টোবর যেন দেশের মানুষকে আর এই লজ্জা নিয়ে লিখতে না হয় যে, আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার এখনো শেষ হয়নি, রায় কার্যকর হয়নি। পরের বছর যেন আমরা বলতে পারি, অন্তত এই একটি বিচারের অপেক্ষার অবসান হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, আবরারকে হত্যার পর এক মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। ওই রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই তিনজন পলাতক। তারা হলেন-মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এ মামলায় সব মিলিয়ে দণ্ডিত ২৫ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক।