২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৪

আঁচল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খাস ফুডের কর্মকর্তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সেল্ফ কেয়ার শীর্ষক মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ  © সৌজন্য প্রাপ্ত

কর্মক্ষেত্রে মানসিক ও আবেগীয় সুস্থতা নিশ্চিত করতে আত্মযত্নের চর্চা গড়ে তোলা জরুরি বলে জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন। কর্মীদের মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও কর্মক্ষয় মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থেকে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য আত্মযত্নকে কর্মসংস্কৃতির অংশ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় খাস ফুডের প্রধান কার্যালয়ে আঁচল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে টেকসই কর্মদক্ষতার জন্য সেল্ফ কেয়ার শীর্ষক মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এ বিষয়গুলো উঠে আসে। 

প্রশিক্ষণে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপের বিভিন্ন কারণ, অতিরিক্ত কাজের চাপ, কর্মক্ষয়, আবেগীয় সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থেকে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য আত্মযত্নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও কীভাবে নিজেদের মানসিক ও আবেগীয় সুস্থতার যত্ন নেওয়া যায়, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রধান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েদুর রহমান সাইদ এমবিবিএস, এমডি প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও কর্মক্ষয়ের কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সময় ও শক্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত সীমারেখা নির্ধারণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং কাজের চাপ থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যাস নিয়েও আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় মেডিটেশন ও মাইন্ডফুলনেসের চর্চাও করানো হয়। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও অল্প সময়ে এসব অনুশীলন কীভাবে করা যায় এবং মানসিক চাপ মোকাবিলায় এগুলো কীভাবে সহায়ক হতে পারে, তা হাতে-কলমে দেখানো হয়।

এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিনের বিভিন্ন চাপের পরিস্থিতি নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়। কর্মীরা নিজেদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেন। ফলে কর্মশালাটি বক্তৃতানির্ভর না হয়ে অংশগ্রহণমূলক আলোচনার ক্ষেত্রেও পরিণত হয়।

প্রশিক্ষণে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপের প্রভাব তুলে ধরে বলা হয়, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথের গবেষণা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনে একজন মানসিক সমস্যায় ভোগেন। গুরুতর মানসিক অসুস্থতার কারণে তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ হারান। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত কর্মীরা অনুপস্থিতি, কর্মদক্ষতা হ্রাস, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং মনে রাখার সমস্যায় ভুগতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর্মী বিষণ্নতার কারণে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন। তাঁদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ কাজে মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মনে রাখার সমস্যায় ভোগেন। এতে একজন কর্মীর বছরে গড়ে ৩৬ কর্মদিবস নষ্ট হয়।

আঁচল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মীদের মানসিক সুস্থতা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও টেকসই কর্মপরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কর্মীদের সুস্থতা নিশ্চিত করাকে শুধু ব্যক্তির দায়িত্ব হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকেও যুক্ত করতে হবে।

প্রশিক্ষণে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মযত্নবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন, কর্মীদের সুস্থতা মূল্যায়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শের সুযোগ, ভারসাম্যপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও দলনেতাদের কর্মীদের মানসিক চাপ ও কর্মক্ষয়ের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। কর্মীরা যাতে মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কথা নিরাপদে বলতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, সে ধরনের কর্মপরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আঁচল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মীদের মানসিক সুস্থতা ও কর্মদক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং সুস্থ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মযত্ন ও সুস্থতা নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।