১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬

অনলাইনে পরিচয় থেকে প্রেম, বরিশালের তরুণীকে বিয়ে চীনা তরুণের—খতিয়ে দেখছে পুলিশ

চীনা যুবক জিয়াং ও তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী বরিশালের জান্নাতুল ইসলাম ইভা  © টিডিসি ফটো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনের অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রায় দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্কের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৫ বছর বয়সী এক যুবক। এরপর বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার এক তরুণীকে বিয়ে করে এখন স্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

চীনা ওই যুবকের নাম জিয়াং। তিনি চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইছুন শহরের বাসিন্দা। তার স্ত্রী জান্নাতুল ইসলাম ইভা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামের জাকির হাওলাদারের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে মোবাইল ফোন কেনার জন্য ঢাকার বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে গেলে ইভার সঙ্গে কয়েকজন চীনা নাগরিকের পরিচয় হয়। পরে তাদের সঙ্গে আড্ডার একপর্যায়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চীনের বাসিন্দা জিয়াংয়ের সঙ্গে ইভার পরিচয় করিয়ে দেন তারা।

পরিচয়ের পর ‘ইউ চ্যাট’ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই যোগাযোগ গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। প্রায় দেড় বছর অনলাইনে যোগাযোগের পর গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশে আসেন জিয়াং। ঢাকায় পৌঁছানোর পর ইভার সঙ্গে এটাই ছিল তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

ইভার ভাষ্য, বাংলাদেশে আসার পরদিন ৪ আগস্ট নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি এফিডেভিট করেন জিয়াং। পরে রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের পর কিছুদিন ঢাকায় থাকার পর সম্প্রতি স্ত্রী ইভাকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জে যান জিয়াং। সেখানে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাদের গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। পরদিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতিতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়।

নিজের বিয়ে নিয়ে ইভা বলেন, ‘জিয়াং গ্রাম খুব পছন্দ করেন। বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল আমার বিয়েতে বড় আয়োজন করার। তাই গ্রামের বাড়িতে এসে পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠান করা হয়েছে।’

স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, জিয়াংয়ের ভাষা তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। অল্প কিছু বুঝলেও বেশিরভাগ সময় অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের কথা হয়। জিয়াং পরিবারের সবার সঙ্গে ভালোভাবে মিশছেন এবং বাংলাদেশের স্থানীয় খাবার ও গ্রামের পরিবেশও উপভোগ করছেন বলে জানান ইভা।

অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে জিয়াং জানান, ইউ চ্যাটে ইভার সঙ্গে পরিচয় ও দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সূত্র ধরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাকে বিয়ে করেছেন। ভবিষ্যতে স্ত্রীকে নিয়ে চীনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

আরও খবর: বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে একসঙ্গে প্রাণ হারালেন ৪ জন

ইভার বাবা জাকির হাওলাদার বলেন, ‘জামাই হিসেবে জিয়াংকে আমরা মেনে নিয়েছি। পরিবারের সবাই আনন্দের সঙ্গে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি।’ তিনি জানান, ইভার পাসপোর্ট তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিন পর জিয়াং তার স্ত্রীকে নিয়ে চীনে ফিরে যাবেন।

এদিকে চীনা নাগরিকের বাংলাদেশে এসে বিয়ে করার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নজরেও এসেছে। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, জিয়াংয়ের বাংলাদেশে অবস্থান ও বিয়ের বিষয়ে থানা পুলিশ আগে থেকে অবগত ছিল না।

তিনি বলেন, জিয়াং বৈধ পাসপোর্টে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কি না এবং স্থানীয় আইন ও বিধি মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিন্ন দেশের দুই নাগরিকের এই বিয়ে এবং এরপর বাকেরগঞ্জের গ্রামীণ পরিবেশে আয়োজিত বৌভাতকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।