বেসরকারি খাতে সময়োপযোগী বেতনকাঠামো ও ঘণ্টাভিত্তিক ন্যূনতম শ্রমমূল্য ঘোষণার দাবি বিপ্লবী পরিষদের
সচিবালয়ে গত ৩১ আগস্ট বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদিত হয়েছে এই উদ্যোগকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। একটি রাষ্ট্র তার কর্মীদের প্রাপ্য মূল্যায়ন করবে, এটাই স্বাভাবিক ও কাম্য।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় রাষ্ট্রের এই সহানুভূতি কি কেবল সরকারি চাকুরেদের জন্যই সংরক্ষিত? দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ, যারা কলকারখানা, দোকানপাট, পরিবহন, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা খাতে দিনরাত পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, তাদের মজুরি নির্ধারিত হয় কোনো বিজ্ঞানসম্মত কাঠামো ছাড়াই নিয়োগকর্তার একতরফা সিদ্ধান্তে, বাজারের অনিয়ন্ত্রিত খামখেয়ালিপনায়। বছরের পর বছর জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, বাড়িভাড়া বাড়ে, সন্তানের পড়াশোনার খরচ বাড়ে অথচ একজন বেসরকারি কর্মীর বেতন বাড়ে না, কিংবা বাড়লেও তা প্রকৃত মূল্যস্ফীতির ধারেকাছেও পৌঁছায় না।
এই বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের দাবিসমূহ- আমরা মনে করি, রাষ্ট্র যদি তার নিজের কর্মীদের জন্য বেতন পুনর্গঠন করতে পারে, তাহলে জাতীয় অর্থনীতির প্রকৃত চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতের শ্রমজীবী মানুষদের জন্যও একই মনোযোগ ও আন্তরিকতা প্রাপ্য।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের চার দফা হলো-
১. সময়োপযোগী বেতনকাঠামো প্রণয়ন বেসরকারি খাতের বিভিন্ন উপখাত (শিল্প, বাণিজ্য, সেবা, পরিবহন, নির্মাণ ইত্যাদি) বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে একটি বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত বেতনকাঠামো প্রণয়ন করতে হবে, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২. ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম শ্রমমূল্য ঘোষণা অনানুষ্ঠানিক ও খণ্ডকালীন শ্রমবাজারে শোষণ রোধে জাতীয়ভাবে একটি ঘণ্টাভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও আইনগতভাবে ঘোষণা করতে হবে, যেন কোনো শ্রমিক নির্ধারিত হারের নিচে কাজ করতে বাধ্য না হন।
৩. বাস্তবায়ন তদারকি ও জবাবদিহিতা শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ কাঠামো গঠন করতে হবে, যা প্রতিষ্ঠানভেদে বেতনকাঠামো ও ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা রাখবে।
৪. পর্যায়ক্রমিক পুনর্মূল্যায়ন সরকারি বেতনকাঠামোর মতোই প্রতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর (প্রতি দুই থেকে তিন বছরে) মূল্যস্ফীতি ও বাজার-বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামো পুনর্মূল্যায়নের একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ বিশ্বাস করে, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন পরিমাপ হয় তার সবচেয়ে প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষটির জীবনমান দিয়ে সচিবালয়ের কক্ষে বসে থাকা কর্মকর্তার বেতনবৃদ্ধি দিয়ে নয়। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মীদের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা প্রদর্শনই একটি ন্যায্য ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রকৃত পরিচয়।
আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে এই দাবিগুলো আমলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। যদি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হয়, তাহলে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ দেশের শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।