২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২

৯ বিয়ে-পরকীয়াসহ নানান অভিযোগ নিয়ে ‘মোবাহালা’র আহবান মিসবাহর, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ স্ত্রীর

হাবিবুর রহমান মিসবাহ ও নাঈমা জান্নাত  © সংগৃহীত

আলোচিত-সমালোচিত চরমোনাই পন্থী ইসলামিক বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছেন স্ত্রী নাঈমা জান্নাত। মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, বিবাহের সময় হাবিবুর রহমান মিসবাহ তার পূর্বের চারটি বিবাহের বিষয় গোপন রাখেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, তাকে ছাড়াও মিসবাহ মোট নয়টি বিবাহ করেছেন এবং এসব বিবাহের কোনোটি কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়নি।

আদালতে মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন মিসবাহ ও তার স্ত্রী নাঈমা জান্নাত। 

হাবিবুর রহমান মিসবাহ বলেন, পবিত্র কোরআনে ঘোষিত লানতের শপথ। এই বিষয়ে এটিই আমার শেষ পোস্ট। আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি আমার ৯ বিয়ের তথ্য মিথ্যা। নাঈমা জান্নাত ৫ম নন; তিনি আমার বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী। আমাকে পাঠানো তার উকীল নোটিশেও নিজেকে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। বিয়ের কাবিন এবং রেজিস্ট্রি আছে। আমার ঘরে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে এটি জেনেই তিনি স্ত্রী হিসেবে আমার ঘরে এসেছেন। আমি কোনো পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত নই। আমি নাঈমা জান্নাতের কাছে কোনো যৌতুক দাবি করিনি। এখন আমি মুবাহালার ঘোষণা করছি।

তিনি লেখেন, হে আল্লাহ! উপরোক্ত বক্তব্যগুলোতে আমি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকি এবং আমার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়ে থাকে, তাহলে আপনি আমার ওপর কোনো লানত নাজিল করবেন না; বরং যে বা যারা জেনে-শুনে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে, তার ওপর আপনার লানত নাজিল করুন। আর আমি যদি উপরোক্ত বক্তব্যে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকি, তাহলে আমার ওপরই আল্লাহর লানত নেমে আসুক। আমি আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট।

তিনি আরও লেখেন, যারা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগকে সত্য মনে করেন, কিংবা নাঈমা জান্নাত নিজে যদি মনে করেন আমার বক্তব্য মিথ্যা— তারা চাইলে আল্লাহর সামনে একইভাবে মুবাহালায় অংশ নিতে পারেন। এ বিষয়ে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই। এরপরও কেউ তোহমত কিংবা সম্মানহানির উদ্দেশ্যে সমালোচনা করলে তার আমলনামা তিনিই বুঝবেন। ফয়সালা মানুষের হাতে নয়, মহান দয়াময় আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলাম।

মিসবাহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের এবং নাঈমা জান্নাতকে একইভাবে মুবাহালায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আদালতে মামলা হয়ে থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায় জবাব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এরপর অভিযোগকারী স্ত্রী নাঈমা জান্নাতও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মিসবাহর মুবাহালার আহ্বান গ্রহণ করার কথা জানান। তবে মুবাহালার আগে মিসবাহর বক্তব্যের কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্ত্রী নাঈমা জান্নাত লেখেন, মোবাহালা গ্রহণ করলাম। হাবিবুর রহমান মিছবাহ মুবাহালার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার বক্তব্যকে মিথ্যা মনে করলে আমাকে মুবাহালায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি তার সেই আহ্বান গ্রহণ করছি। তবে মুবাহালার আগে তার বক্তব্যের কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

১. আংটির বিষয় ও ‘কুল্লামার তালাক’ এর কসম এর কথা মনে আছে? হাবিবুর রহমান মিছবাহ এর আগেও আংটির বিষয় ও আমাকে সাথে রাখা নিয়ে ‘কুল্লামার তালাক’ এর কসম খেয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘নাইমা আমার কাছে নেই’, তার কথাটি এক অর্থে ঠিক ছিল। কারণ তখন আমি তার কাছে ছিলাম না; আমাকে তিনি পাশের অন্য একটি রুমে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, ইলমুল মানতিক খাটিয়ে নিজের আকামকে ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ আমি তখনও তার স্ত্রী ছিলাম না। শব্দের ব্যাখ্যা দিয়ে বক্তব্যকে সত্য প্রমাণ করার চেষ্টা করলেই কি কসম হয়ে যায়? আল্লাহ কি জানেন না আসল সত্য? তিনি দেখেন নি?

তার একটু আগের ঘটনা। তখন আমি ইদ্দতকালীন ছিলাম। মিছবাহ তখন আমার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতোই ছিলেন। প্রথমে আমাকে মাওলানা মুসাদ্দেক সাহেবের বাসায় আমাকে তার স্ত্রী পরিচয়েই নিয়ে উঠেছিলেন। সেখানেই আমার সাথে পিরিয়ড অবস্থায় প্রথম অবৈধ মেলামেশা করেন। আমি বারবার বলেছি আমি অসুস্থ। কিন্তু তিনি মানেন নি।

আমাকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছেন। এরপর খলিল যখন আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়, তখনও মিছবাহ আমার রুমেই ছিলেন। খলিল রুমের ভেতরে প্রবেশ করেননি; দরজা থেকেই আমাকে নিয়ে গেছেন। তাহলে শুধু ‘নাইমা আমার কাছে নেই’ এই বাক্যের কারিগরি ব্যাখ্যা দিয়ে সেই সময়ের বাস্তবতাকে কি অস্বীকার করা যায়? সেই কুল্লামার তালাকের ব্যাপারে আলেমরা ব্যাখা দিবেন। ফতুয়া দিবেন।

২. আজকের মুবাহালায় ‘৯ বিয়ে’র বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হলো কেন? মিছবাহ বলেছেন, ‘আমার ৯ বিয়ের তথ্য মিথ্যা।’ আমার সরল প্রশ্ন- ৯টির বেশি, নাকি ৯টির কম? তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরেও উল্লেখ করলেন না কেন? এখানেও কি ইলমুল মানতিকের কারসাজি আছে? তিনি তো এর আগেও বারংবার কসম কেটে বলেছেন, ‘আমার মনে কী আছে, সেটা তো আমিই জানি।’ এমনকি সেই কুল্লামা তালাকের কসম নিয়ে বারবার তাকে আমি যখন জিজ্ঞেস করতাম তিনি সাথে সাথেই রাগারাগি শুরু করতেন। তাহলে আজও কি এমনভাবে বক্তব্য দেওয়া হলো, যাতে পরবর্তীতে বলা যায় ‘আমি তো ওই অর্থে বলিনি’? বা আমার মনে মনে অন্যকিছু ছিল?

৩. পরকীয়ার বিষয়েও তার বক্তব্য অসম্পূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘আমি কোনো পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত নই।’ কিন্তু ‘এই মুহূর্তে কোনো পরকীয়া সম্পর্কে নেই’ এবং ‘কখনো কোনো পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত ছিলাম না’ এই দুটি বক্তব্য এক নয়। এমনও হতে পারে তিনি এই মুহুর্তে স্টাটাস লিখছেন, তিনিতো পরকীয়া করছেন না এই মুহুর্তে! 

আরও পড়ুন: মোট ৯টি বিয়ে করেছেন মিসবাহ, নেই কাবিননামা-রেজিস্ট্রেশন, আদালতে মামলা ৫ম স্ত্রীর

তিনি যদি সত্যিই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ অস্বীকৃতি জানাতে চান, তাহলে অতীতসহ পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত ছিল। তার ২০ বছর আগের প্রথম স্ত্রীও তার অতীতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানেন এবং কথা বলেছেন। আর গত ৬ বছরে আমি নিজেও তাকে একাধিকবার অনৈতিক সম্পর্কে হাতেনাতে ধরেছি। তাহলে তিনি মুবাহালায় শুধু এমন একটি বাক্য কেন বললেন, যার ব্যাখ্যার সুযোগ পরবর্তীতেও থেকে যায়? আর লাস্ট পোস্ট কেন? আমার এই পোস্টের ব্যাখ্যাও দিতে বলেন।

৪. ‘বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী’ এই বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন আছে। মিছবাহ বলেছেন, ‘নাইমা জান্নাত ৫ম নন; তিনি আমার বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী।’
আমি তার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলাম এটি আমার বক্তব্য। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার বিয়েটি তাঁর পঞ্চম বিয়ে ছিল। তার অন্য স্ত্রীও এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। তাহলে ‘বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলা আর ‘আমার সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে’ এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখানোর চেষ্টা কেন?

৫. কাবিন ও রেজিস্ট্রির বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিয়ের কাবিন এবং রেজিস্ট্রি আছে।’ যদি কাবিননামা ও রেজিস্ট্রি থাকে, তাহলে আমাকে তার কপি দেওয়া হয়নি কেন? তিনি কাবিননামা করেছেন কি না তিনি নিজেই ভালো জানেন। আমার সন্তানের জন্মনিবন্ধন পর্যন্ত করা হয়নি। এমনকি টিকার কার্ডও করা হয়নি। শুধু পোস্টে ‘কাবিন ও রেজিস্ট্রি আছে’ লিখে দিলেই বাস্তবতার সব প্রশ্নের উত্তর হয়ে যায় না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যথাযথ জায়গায় উপস্থাপন করা হবে।

৬. যৌতুকের বিষয়টি তিনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেটিও অসম্পূর্ণ। মিছবাহ বলেছেন, ‘আমি নাঈমা জান্নাতের কাছে কোনো যৌতুক দাবি করিনি।’ কিন্তু বিষয়টিকে শুধু গতানুগতিক অর্থে ‘যৌতুক চাওয়া’ হিসেবে দেখলে পুরো অভিযোগটি বোঝা যাবে না। আমি যে মামলা করেছি, সেটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা। আইনের নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগের নির্দিষ্ট উপাদান থাকে। ‘আমি যৌতুক চাইনি’ এই একটি বাক্য দিয়ে মামলার সব অভিযোগের জবাব দেওয়া যায় না। এখানেও বিষয়টিকে শব্দের সংকীর্ণ অর্থে নিয়ে মূল অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না সেটিও আদালতেই পরিষ্কার হবে।

৭. তার বাস্তব জীবন সম্পর্কে আমি একজন সাবেক স্ত্রী হিসেবে যা জানি, যারা তার মোবাহালার পোস্ট দেখে গদগদ করছেন তারা কী জানেন? আজ তার মুবাহালার পোস্ট দেখে অনেকেই গদগদ হয়ে সেটি গ্রহণ করছেন। কিন্তু তার স্ত্রী হিসেবে তার বাস্তব জীবন সম্পর্কে আমারই জানা থাকবে। তাদের নয়। আমি তার স্ত্রী হয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি- তিনি নিয়মিত নামাজ ঠিকভাবে পড়তেন না। অবসর সময় পেলেই সিনেমা দেখেন। অশ্লীল গালিগালাজ করেন এবং মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের নাটক, সিরিয়াল এসব নিয়েই পড়ে থাকতেন। আমি কারও ঈমানের বিচারক নই। কিন্তু যখন তিনি নিজেকে সত্য-মিথ্যার প্রশ্নে আল্লাহর সামনে দাঁড় করিয়ে মুবাহালার আহ্বান জানান, তখন তার সঙ্গে সংসার করা একজন সাবেক স্ত্রী হিসেবে আমার জানা বাস্তবতাগুলো বলার অধিকার আমারও আছে।

৮. এবার মুবাহালার বিষয়ে আমার কথা আমি তার মুবাহালার আহ্বান সবকিছু জেনে-বুঝেই গ্রহণ করলাম। তিনি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তার বক্তব্য দিয়েছেন। আমিও আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আমার বক্তব্য দিচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি যদি সত্য বলে থাকি, জেনে-শুনে মিথ্যা অভিযোগ না করে থাকি এবং আমার বক্তব্য সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে সত্যের ওপর অটল রাখুন এবং আমার ওপর কোনো লানত নাজিল করবেন না। আর আমি যদি জেনে-শুনে মিথ্যা বলে থাকি, কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকি, তাহলে আমার ওপরই আপনার লানত নেমে আসুক। আল্লাহুম্মা আমিন।

শেষে তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ কার কথা বিশ্বাস করবে, সেটি মানুষের বিষয়। কিন্তু আল্লাহর সামনে কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যাবাদী সেটি একমাত্র তিনিই জানেন। আর তার ইলমুল মানতিকের কাছে শয়তানও হয়তো হার মেনে যাবে; কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে শব্দের কারসাজি চলে না। মুবাহালার আহ্বান তিনি জানিয়েছেন। আমি সেই আহ্বান গ্রহণ করলাম। বাকি ফয়সালা মহান আল্লাহর হাতে। আইনের বিষয় আদালতে, আর সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর দরবারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৮ নম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তার স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত। মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার নালিশি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৪ মে শরিয়াহ মোতাবেক হাবিবুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে হুমায়রা জান্নাতের বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘আফরাদ মিসবাহ’ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

বাদীর অভিযোগ, বিবাহের সময় হাবিবুর রহমান মিসবাহ তার পূর্বের চারটি বিবাহের বিষয় গোপন রাখেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, তাকে ছাড়াও মিসবাহ মোট নয়টি বিবাহ করেছেন এবং এসব বিবাহের কোনোটি কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বাদী যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এবিএম ইবরাহিম খলিল আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ বিরুদ্ধে আমার মক্কেল হুমায়রা জান্নাত যৌতুকের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। বাদী হুমায়রা জান্নাতের সঙ্গে হাবিবুর রহমান মিসবাহ পরিচয় হয় তার ওয়াজ মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের মাধ্যমে। পরে ফেসবুকে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের পরিচয় বাড়ে। একপর্যায়ে হুমায়রা জান্নাতকে যাত্রাবাড়ীতে নিজের বাসায় নিয়ে যান মিসবাহ। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আগে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

আইনজীবীর দাবি, মামলার আবেদনে হাবিবুর রহমান মিসবাহর একাধিক বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হুমায়রা জান্নাত তার পঞ্চম স্ত্রী। এরপরও তিনি আরও চারটি বিয়ে করেছেন। এ হিসেবে তার মোট নয়টি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাবিবুর রহমান মিসবাহ নিজেকে ইসলামি বক্তা ও ধর্মীয় জ্ঞানদাতা হিসেবে পরিচিত করেছেন। তিনি বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্য শুনে অনেক সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা তার প্রতি আকৃষ্ট হন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রচারের পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

আইনজীবীর দাবি, হাবিবুর রহমান মিসবাহ একাধিক বিয়ের পেছনে আর্থিক বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। তার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা দিয়ে তিনি বড় অঙ্কের সম্মানী পান। বিভিন্ন জায়গায় তার নিজস্ব যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনাও রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহারের একটি কারণ হিসেবে তিনি একের পর এক বিয়ে এবং নারীর প্রতি দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট ইবরাহিম খলিল বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে সরাসরি সমন জারি করেছেন। পরবর্তী তারিখে আসামি আদালতে হাজির হলে তার বক্তব্য জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, হাবিবুর রহমান মিসবাহ কাবিন না করেই বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সন্তানও রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

উল্লেখ্য, উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মুবাহালা অর্থ পারস্পরিক অভিশাপ বা লানত প্রার্থনা করা। ইসলামি পরিভাষায়, সত্য ও মিথ্যার ফয়সালা করার জন্য দুইপক্ষ যখন দীর্ঘ আলোচনা বা তর্কের পর কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তখন উভয় পক্ষ আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে প্রার্থনা করে যেন মিথ্যাবাদীর ওপর আল্লাহর আজাব বা অভিশাপ নেমে আসে।