১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০২

সাবেক ছাত্রদল নেতাকে মারধর করা সেই ইউএনওকে বদলি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুরঘাটের ইজারাদার ও ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে মারধরের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়।

ঘটনার পরদিন ত্রিশাল পৌর শহরের টিএমসি হাসপাতালে সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের উপস্থিতিতে বিষয়টি সুরাহা করা হয়। এতে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী নিজের ভুল স্বীকার করে ‘সরি’ বলেন।

ময়মনসিংহ সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং ওই ঘাটের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ সেলিম বলেন, বিকালে পৌর শহরের টিএমসি হাসপাতালে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি সুরাহা করা হয়। ইউএনও নিজের ভুল স্বীকার করে সরি বলেছেন।

এদিন সন্ধ্যায় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, কাজে গিয়ে যা হয়েছিল তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। তা নিয়ে পরবর্তীতে যেন কোনো ঘটনার সৃষ্টি না হয় সেজন্য মাননীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান হয়। আমাকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এমন একটি আদেশ পেয়েছি।

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির পয়েন্টে ছাত্রদলের সাবেক নেতা সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চুকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায়। মারধরের শিকার সারোয়ার জাহান বাচ্চু ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।

সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর সঙ্গে আনসার ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। ইউএনও ইজারারের কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সেখানে থাকা ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। তখন আরাফাত সিদ্দিকী নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি ত্রিশালের ইউএনও এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

কথাবার্তার এক পর্যায়ে ইউএনও সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন। তখন র‍্যাবের এক সদস্য সারোয়াকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের হাত থেকে একটি লাঠি নিয়ে তাকে চারবার আঘাত করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।