০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

দেশের ২২১৭টি দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আধুনিক ল্যাব স্থাপনে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া

দেশে আধুনিক ল্যাব স্থাপনে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া   © টিডিসি সম্পাদিত

দেশের ২ হাজার ২১৭টি নিবন্ধিত দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (এসটিপি) আধুনিক ল্যাব স্থাপনে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)। প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কার্যক্রমের পাশাপাশি এসব ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্কিলস ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায় সংস্থাটি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ার ম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী জানান, সম্প্রতি একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি শুধু প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশের সব এসটিপিতে আধুনিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা নেই। ফলে প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বাড়লেও অনেক প্রতিষ্ঠানে সেই জ্ঞান কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। এ কারণে ২ হাজার ২১৭টি নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব স্থাপনে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্কিলস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি প্রস্তাবটিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এরই মধ্যে তাদের ১৫ জন কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন। পরে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে প্রকল্পটি উপস্থাপন করবে। ওই উপস্থাপনার পর প্রকল্পটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশের দক্ষতা উন্নয়ন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করে এনএসডিএ। সংস্থাটি দক্ষতা প্রশিক্ষণের কারিকুলাম তৈরি, সনদ প্রদান এবং সারা দেশের স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডার বা এসটিপিগুলোর নিবন্ধন ও তদারকি করে। সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী গত বছরের ২৬ আগস্ট এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

আরও পড়ুন: চবির সিনেট অধিবেশন আজ: বাধার মুখে অংশ নিচ্ছেন না আ’লীগপন্থী শিক্ষকরা

তার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে নিবন্ধিত দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ড. নাজনীন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত এনএসডিএ ১ হাজার ৪১৭টি নতুন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিবন্ধিত হয়েছে।

তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে নিবন্ধিত এসটিপির সংখ্যা ছিল ৬১৪টি। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ২১৭টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাড়ে তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

তবে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের এই দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সক্ষমতার ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২ হাজার ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ১৫৩টি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। মূলত প্রশিক্ষকের সংকটের কারণে অনেক প্রশিক্ষককে একাধিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ড. নাজনীন জানান, একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বছরে চারটি ব্যাচ পরিচালনা করার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান দুই বা তিনটির বেশি ব্যাচ পরিচালনা করতে পারছে না।

তিনি বলেন, 'আধুনিক ল্যাব স্থাপনের এই উদ্যোগ প্রশিক্ষক সংকটের সমাধানের বিকল্প নয়; বরং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণের প্রচেষ্টা। অনেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু থাকলেও সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। নতুন ল্যাব সুবিধা এবং প্রশিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থায় একটি টেকসই ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।'

এনএসডিএর ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনাতেও একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্কিলস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় প্রশিক্ষক ও অ্যাসেসরদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে সমন্বিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাটির প্রতিনিধিদল কবে বাংলাদেশে এসে প্রকল্পটি উপস্থাপন করবে বা চূড়ান্ত চুক্তি কবে হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানায়নি এনএসডিএ।