০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:১০

১১ মাসের রিদা লড়ছে ব্লাড ক্যানসারের বিরুদ্ধে, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৪০ লাখ টাকা

মামার সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিদা  © পরিবারের সৌজন্যে

বয়স মাত্র ১১ মাস পেরিয়ে অল্প কিছুদিন। এখনো সেভাবে হাঁটতে শেখেনি, স্পষ্ট করে কথাও বলতে পারে না। এই সামান্য বয়সেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে নামতে হয়েছে মিনহা রহমান রিদাকে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তার শরীরে ধরা পড়েছে ইনফ্যান্টাইল বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া, যা শিশুদের এক ধরনের রক্তের ক্যানসার— যার চিকিৎসায় দুই থেকে তিন বছরে প্রয়োজন হবে ৪০ লক্ষ টাকা। একই সঙ্গে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় রক্ত ও প্লাটিলেট যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার।

মিনহা রহমান রিদার বাবা রুমন রুমন হোসাইন একটি মোবাইল ফ্যাক্টরির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। মা গৃহিনী। মধ্যবিত্ত সংসারে এতদিন ঠিকঠাক মানিয়ে চললেও রক্তের উত্তরাধিকার রিদার ভয়াবহ দুর্দিনে আর্থিক বোঝা বহন দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে পরিবারটির জন্য।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসের শেষ দিকে হালকা সর্দির সঙ্গে দুই গাল ও মুখ ফুলে যাওয়ায় রিদাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও ধীরে ধীরে সে ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে এবং খাওয়াও কমিয়ে দেয়। এরই মধ্যে গত ১ আগস্ট চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষার ফলাফল সামনে এলে থমকে দাঁড়ায় রিদার মধ্যবিত্ত বাবা-মায়ের জীবন। পরীক্ষায় দেখা যায়, রিদার শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ইনফ্যান্টাইল বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়।

তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এভারকেয়ার হাসপাতালের জিনগত পরীক্ষায় রিদার MLL (KMT2A) জিনের পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। শিশুদের এই ধরনের লিউকেমিয়ায় এটি তুলনামূলক ইতিবাচক লক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে, নির্ধারিত চিকিৎসা প্রোটোকল ও নিয়মিত কেমোথেরাপি নিশ্চিত করা গেলে রিদার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ভালো।

রিদার এই উচ্ছ্বাস থমকে গেছে

কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার জানায়, বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই রক্ত, প্লাটিলেট ও বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োজন হচ্ছে। মূল কেমোথেরাপি এখনও শুরু হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরো চিকিৎসা সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন বছর সময় এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, যা পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

রিদার মামা শাহাদাত জামান সৈকত দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জুলাইয়ের শেষ দিকে ওর দুই গাল আর মুখ ফুলতে শুরু করে। হালকা সর্দি ছিল। আমরা ভেবেছিলাম ঠান্ডা লেগেছে। কিন্তু দিন দিন ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছিল, খেতে চাইছিল না। ১ আগস্ট ডাক্তার একটা সাধারণ রক্ত পরীক্ষা দিলেন। রিপোর্টটা হাতে নিয়ে ডাক্তার অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলেন। তারপর বললেন, বাচ্চাটাকে এখনই ভর্তি করাতে হবে। রিদার ব্ল্যাড ক্যানসার হয়েছে। সেদিন যেন আমাদের পৃথিবীটা থমকে গেল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিদা

এ পরিস্থিতিতে রিদার চিকিৎসার জন্য ফান্ডরেইজিং শুরু করেছে রিদার পরিবার। একটি অনলাইন ফান্ডরেইজিং ওয়েবসাইটও চালু করেছেন তারা। সেখানে রিদার চিকিৎসার অগ্রগতি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং প্রতিটি আর্থিক ব্যয়ের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে, যেন সহায়তাকারীরা অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারেন। চিকিৎসার খরচ বহন করতে অক্ষম এবং শরীয়াহ অনুযায়ী জাকাত গ্রহণের যোগ্য হওয়ায় জাকাতও গ্রহণ করছে রিদার পরিবার। পরিবারের সদস্যরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সহৃদয় মানুষের কাছে শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতা এবং সবার কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা
রিদার চিকিৎসার জন্য চালুকৃত ফান্ডরেইজিং ওয়েবসাইটে (https://saveminha.xyz/) গিয়ে অনলাইন পেমেন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অনুদান পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এই ওয়েবসাইটে রিদার চিকিৎসার সামগ্রিক তথ্য লাইভ পাওয়া যাবে।