ব্যাংকিং ছেড়ে প্রযুক্তি খাতে জিশান আহমেদ, জেনকোর সল্যুশনসের নতুন সিইও
প্রায় দুই দশকের সমৃদ্ধ ব্যাংকিং ক্যারিয়ার পেছনে ফেলে প্রযুক্তি খাতে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন জিশান আহমেদ। তিনি বিটোপিয়া গ্রুপের সফটওয়্যারভিত্তিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জেনকোর সল্যুশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মূলত এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তর সেবার পরিধি বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি তাকে এই শীর্ষ পদে রূপায়ন করেছে।
নতুন দায়িত্বের অংশ হিসেবে জিশান আহমেদ জেনকোর সল্যুশনস ছাড়াও বিটোপিয়া গ্রুপের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঙ্গপ্রতিষ্ঠান—বিডিকলিং এন্টারপ্রাইজ ও বিটোপিয়া পালসগ্রিডসহ মোট চারটি বিজনেস ইউনিটের সার্বিক নেতৃত্ব দেবেন।
বিটোপিয়া গ্রুপে যোগ দেওয়ার পূর্বে জিশান আহমেদ ব্যাংক এশিয়ায় নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি বিইপিএস, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ইউসিবি এবং মেঘনা ব্যাংকসহ দেশের শীর্ষ সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যাংকিং, কার্ড সেবা, প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও খুচরা ব্যাংকিং কার্যক্রমে সফল নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
নতুন পথচলা প্রসঙ্গে জিশান আহমেদ বলেন, দুই দশক ব্যাংকিং খাতে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন এমন একটি জায়গায় যুক্ত হতে চেয়েছি, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী উদ্ভাবন সম্ভব। বর্তমানে এআই, এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ও ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন বিশ্বব্যাপী ব্যবসার রূপ বদলে দিচ্ছে। জেনকোর সল্যুশনসের মাধ্যমে আমরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা বাড়াতে কাজ করব।
জিশান আহমেদকে স্বাগত জানিয়ে বিটোপিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রুপ সিইও মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ব্যাংকিং প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরে জিশান আহমেদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আমাদের এন্টারপ্রাইজ ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এআই ও অটোমেশননির্ভর প্রযুক্তির এই যুগে দেশি-বিদেশি বাজারে আমাদের সেবা বিস্তৃত করতে তার নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে। আমরা জেনকোরকে কেবল একটি সফটওয়্যার কোম্পানি নয়, বরং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতে চাই।
উল্লেখ্য, জেনকোর সল্যুশনস মূলত এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার, ওডু (Odoo) ইআরপি বাস্তবায়ন, কাস্টম সফটওয়্যার ও এআই সমাধান নিয়ে কাজ করে। গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিডিকলিং এন্টারপ্রাইজ কাজ করছে সরকারি ই-জিপি, দরপত্র ব্যবস্থাপনা ও এনার্জি খাতের টার্নকি প্রজেক্ট নিয়ে এবং বিটোপিয়া পালসগ্রিড রয়েছে নবায়নযোগ্য ও সৌরবিদ্যুৎ খাত সচল রাখার দায়িত্বে।
বর্তমানে বিটোপিয়া গ্রুপের ২২টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজারের বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যারা বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে সফলতার সঙ্গে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক সেবা দিয়ে আসছেন।