২৮ জুন ২০২৬, ১৩:২৫

আজ থেকে চালু ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে

ভারতীয় ভিসা  © সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ২ বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল ভারত সরকার। রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে এই পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের ভিসা আবেদনে বেশকিছু নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইভ্যাকে সশরীরে কাগজপত্র জমা দেওয়ার অন্তত একদিন আগেই অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। 

আবেদন যেভাবে

প্রথম ধাপ: নিখুঁতভাবে অনলাইন ফরম পূরণ
ভিসা আবেদনের প্রথম কাজ হলো অনলাইনের মাধ্যমে ফরম পূরণ। আবেদনকারীকে প্রথমে ভারতীয় ভিসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/Registration) প্রবেশ করে সমস্ত তথ্য নিখুঁতভাবে পূরণ করতে হবে। ফরমটি সঠিকভাবে পূরণের পর সেটি কম্পিউটার বা মোবাইলে পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিং
এটি নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক অংশ। পরবর্তী কার্যদিবসে আইভ্যাকে ফাইল জমা দেওয়ার জন্য তার আগের দিনই স্লট বুক করতে হবে:

১. ফাইল আপলোড টাইম: প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আইভ্যাকের নির্ধারিত পোর্টালে (appointment.ivacbd.com) সাইন-আপ করতে হবে এবং ডাউনলোড করা মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ ফাইলটি আপলোড করতে হবে।

২. সতর্কবার্তা: আপলোড করা ফাইলটি যেন ৩০ দিনের বেশি পুরোনো না হয়। কোনো প্রকার এডিটেড বা বিকৃত ফাইল আপলোড করলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সফলভাবে ফাইল আপলোড করলেই কেবল পরের ধাপে যাওয়া যাবে।

অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন ও ওটিপি প্রক্রিয়া
সাইন-আপ করার সময় ভিসার আবেদনপত্রে যে ইমেইল আইডি ব্যবহার করেছেন, সেটি দিতে হবে। এরপর আপনার মোবাইল ও ইমেইলে দুটি পৃথক ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে। প্রথমে ইমেইলের ওটিপি এবং পরে মোবাইলের ওটিপি সাবমিট করে অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাই করতে হবে। ভেরিফিকেশন শেষে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সাইন-আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সাইন-আপ শেষে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর মোবাইলে আবার একটি ওটিপি আসবে, যা দিয়ে মূল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতায় প্রবেশ করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট সময় দেখাবে। আবেদনকারী চাইলে সেই সময়টি একবার পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনেই ১,৫০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে। উল্লেখ্য, ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না, তবে আইভ্যাকের এই প্রক্রিয়াকরণ চার্জ বাধ্যতামূলক।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

পাসপোর্ট: মূল পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ৬ মাস থাকতে হবে এবং কমপক্ষে ২টি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের প্রথম ৪ পাতার কপির সাথে সব পুরোনো পাসপোর্ট অবশ্যই জমা দিতে হবে।

ছবি: ৩ মাসের মধ্যে তোলা ২×২ ইঞ্চি সাইজের রঙিন ছবি

পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধনের কপি।

ঠিকানার প্রমাণ: আবাসন প্রমাণ হিসেবে ৬ মাসের কম পুরোনো বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি।

পেশার প্রমাণ: চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি, শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: প্রতি আবেদনের সঙ্গে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্স বা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ ৩ মাসের হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে পাসপোর্ট ডেলিভারির তারিখ জানানো হবে।

আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা
 ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইন আবেদন জমা দেয়ার পর আর কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তাই নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বরসহ সব তথ্য একাধিকবার যাচাই করে আবেদন জমা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে বলে অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা ওয়েব ফাইল নম্বর সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।