ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব অডিওলজিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
দদেশের বাক, শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি)। দেশের প্রথম পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে এসএসএলটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক সম্মানিত আন্তর্জাতিক শ্রবণ স্বাস্থ্য সংস্থা 'ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অডিওলজি' (আইএসএ) এর প্রিমিয়াম অ্যাফিলিয়েট মেম্বারশিপ অর্জন করে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত ৩৭তম ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব অডিওলজিতে (ডব্লিউসিএ-২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছে বাংলাদেশ।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অডিওলজি (আইএসএ) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব কংগ্রেসে বিশ্বের প্রায় ৮০টিরও বেশি দেশ থেকে ১,৫০০ জনেরও অধিক শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, ক্লিনিশিয়ান ও গবেষক একত্রিত হন। সেখানে আইএসএর পূর্ণকালীন সদস্য এবং এসএসএলটি এর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেসের দুই সম্মানিত ফ্যাকাল্টি এবং এসএসএলটি এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুজ্জামান এবং সাধারণ সদস্য নার্গিস জাহান।
বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়
কংগ্রেসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তাঁরা শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্যসেবার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, টুলস এবং আধুনিক চিকিৎসা ও গবেষণা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জন করেন। একইসঙ্গে বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা, প্রতিবন্ধকতা ও পেশাগত অগ্রযাত্রার চিত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সফলভাবে তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশের প্র্যাকটিশনাররা এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং বিশ্বমানের দক্ষতা, গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও নিবিড় করবে।
উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অডিওলজি (আইএসএ) ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের সাফল্য দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষায়িত থেরাপি চিকিৎসার গুরুত্ব ও স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।