অনলাইনে এসএসসি পড়ুয়া ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয়, বিয়ে করতে এসে বয়স কম দেখে ফিরে গেলেন চীনা যুবক
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় ছুটে এসেছিলেন এক যুবক। প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করে দেশে ফেরার লক্ষ্য ছিল। তবে প্রেমিকার বয়স কম হওয়ায় সেই আশা পূরণ হয়নি। ফলে বিয়ে না করেই নিজ দেশে ফিরে যেতে হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রেমিকা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর পার সাঁওতা গ্রামে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমারখালীর সাঁওতা গ্রামের স্কুল পড়ুয়া এক কিশোরীর (১৬) সঙ্গে সাত মাস আগে অনলাইনে একটি মিউজিক গ্রুপে পরিচয় হয় চীনের নাগরিক এম এ হাইশানের (৩৯)। একপর্যায়ে কিশোরীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন এম এ হাইশান। তবে প্রেমিকার বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে না করেই ফিরে গেলেন।
গতকাল বুধবার (১০ জুন) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে রিসিভ করে কুমারখালীতে নিয়ে যান প্রেমিকা ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে প্রেমিকার বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আপত্তিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বিয়ে না করেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন হাইশান।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে বুধবার ছেলেটি ঢাকা পৌঁছালে মেয়ে ও তার স্বজনেরা তাকে বুধবার বিকালে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল ও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির বিয়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নয়। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ফের ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে গেছে। আর চীনা যুবকের সঙ্গে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে কথা বলছেন স্থানীয় প্রতিনিধি, স্বজন ও পুলিশের সদস্যরা। আশপাশে উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর একটি ভ্যানে করে চীনা যুবক চলে যান।
ওই কিশোরী জানায়, একটি মিউজিক গ্রুপে সাত-আট মাস আগে পরিচয় হয়েছিল। চীনা ভাষা বুঝিনি। তেমন প্রেম-ভালোবাসা হয়নি। তবু তিনি (চীনা যুবক) বিয়ের জন্য চলে এসেছেন। কিন্তু আমার বয়স না হওয়ায় বিয়ে হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ছেলেটি আবার ফিরে আসলে বিয়ে করবো।
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন না চীনা যুবক এম এ হাইশান। তবে অ্যাপসের গুগল ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে তিনি বলেন, আমি চীনের গানসু প্রদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়ে করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের তিন মাসের সম্পর্ক। আমি চীনে ফিরে যাওয়ার পর আরও দেড় বছর সময় আছে। দেড় বছর পর আবার ফিরে আমার প্রিয়তমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবো।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, প্রেমের সম্পর্কের টানে এক চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছিলেন বিয়ের জন্য। কিন্তু মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যুবককে ভালোভাবে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।