বাংলা মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের ওপর এক্সপেরিমেন্ট না করে ইংরেজি কারিকুলাম অনুবাদের পরামর্শ ঢাবি অধ্যাপকের
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন মনে করেন, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ওপর গবেষণা না করে ইংরেজি কারিকুলাম অনুবাদের করায় যথার্থ। এলক্ষ্যে শিক্ষাবিদদের নিয়ে শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম তৈরির করতে সরকারেবে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আজ রবিবার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, ইংল্যান্ডের মূল ধারার শিক্ষাকে কর্মমুখী শিক্ষায় রূপান্তরের কথা কি ইংলন্ডের কোন প্রধানমন্ত্রী বলেছে? আমাদের দেশের যে ইংরেজি মাধ্যম আছে সেটা কি কর্মমুখী শিক্ষার কারিকুলাম? বরং ইংল্যান্ডের কারিগরি ধারা আছে সেটাকে তারা শক্তিশালী করে। কিন্তু এদের মূল ধারাই মূল ধারার বিজ্ঞানী, দার্শনিক, ডাক্তার ও প্রকৌশলী তৈরী করে। এই মূল ধারাই স্টিফেন হকিং, পল ডিরাক, রজার পেনরোজদের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী তৈরী করে। একইভাবে জার্মানির মূল ধারার শিক্ষাকে বলা হয় "জিমনাসিয়াম"! সেই ধারাই আইনস্টাইন তৈরী করেছে। কর্মমুখী শিক্ষার জন্য তারা কারিগরি ধারা তৈরী করেছে যা অত্যন্ত শক্তিশালী।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বাংলা মাধ্যমের ছেলেমেয়েদের উপর এত পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে ইংরেজি কারিকুলামকে অনুবাদ করলেইতো হয়। ইংরেজি মাধ্যম বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে অনেক জনপ্রিয়। ওটা অনেক গবেষনা করে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আমলাদের বলছি আপনারা বিশেষজ্ঞ হতে জায়েন না প্লিজ। যদি কিছু করতেই হয় শিক্ষাবিদদের দিয়ে একটি শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন বানান এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের শিক্ষাক্রম বানান।
শিক্ষা কোনো সরকারের পরীক্ষাগার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিন্তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রও নয়। একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। তাই শিক্ষানীতি ও কারিকুলাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্ঞান, গবেষণা, অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। যদি সত্যিই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করতে হয়, তাহলে দেশের সেরা শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কলারদের নিয়ে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন গঠন করা উচিত। শিক্ষা কারিকুলাম হবে গবেষণালব্ধ জ্ঞান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় প্রয়োজনের সমন্বয়ে নির্মিত—কোনো ব্যক্তি বা সরকারের খেয়ালের ভিত্তিতে নয়।
এরআগে গতকাল শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন যে কারিকুলামের ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে তা আপডেট করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যে শিক্ষা কর্মমুখী নয়, যে শিক্ষা মানুষকে কাজ শেখাতে পারে না এবং বিদেশে গিয়ে কিছু করতে পারে না, তা আসলে আমাদের কোনো কাজে আসে না। তাই কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।