০৭ মে ২০২৬, ১৮:২০

‘স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি পর্যন্ত রাজনীতিকরণ হয়েছে’

‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে কথা বলছেন রুমিন ফারহানা  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলের ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ পর্যন্ত সর্বত্র রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সামগ্রিক পচনের প্রভাব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনীতি—সবখানেই পড়ছে।

আজ বুধবার রাজধানীতে ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম এ সংলাপের আয়োজন করে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ‘নো কমপ্রোমাইজ’ নীতি গ্রহণের সময় এসেছে—উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা প্রস্তাব দেন, কেউ এমপি হতে চাইলে তাকে নিজের সন্তানকে অন্তত নিজ জেলার স্কুলে পড়াতে হবে এবং নিজ এলাকায় চিকিৎসা নিতে হবে। এতে করে কেবল অর্থ ও প্রভাবের জোরে রাজনীতিতে আসা মানুষের সংখ্যা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে এমন মানুষও এমপি হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে থাকেন যাদের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেকে কোনো দৃশ্যমান পেশা বা আয়ের উৎস ছাড়াই নির্বাচনে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকেন।

শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। রুমিন ফারহানার মতে, দেশে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কারণ শিক্ষকতা এখন আর সম্মানজনক ও আর্থিকভাবে নিরাপদ পেশা হিসেবে বিবেচিত হয় না।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোয় সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসেন, কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় দলীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষকদের কোচিং নির্ভরতার পেছনেও আর্থিক অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেন তিনি।

সমাজে অর্থের আধিপত্য শিক্ষকদের মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এখন অর্থের উৎস বৈধ না অবৈধ—তা নিয়ে সমাজে খুব বেশি প্রশ্ন ওঠে না। ফলে যারা প্রকৃত অর্থে সমাজকে কিছু দিতে পারেন, তারা এই পেশায় আসতে অনুৎসাহিত হন।

বর্তমান সরকারের ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের অনেক গ্রামে এখনো শিক্ষার্থীরা হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে স্কুলে যায়। সেখানে ট্যাব বা ই-লার্নিংয়ের কথা বলার আগে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

রুমিন ফারহানা বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যখন পচন শুরু হয়, তখন তার প্রভাব শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—সবখানেই পড়ে। তাই রাজনীতি সঠিক পথে না ফিরলে কোনো খাতেই স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।