৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:০৮

‘৪০ লাখ মানুষের ডেটা ডার্ক ওয়েবে বিক্রির ঝুঁকিতে’

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ  © সংগৃহীত

সাইবার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফাইজ তাইয়েব আহমেদ। রোববার (২৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর, ঠিকানা ও ই-মেইলসহ সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, সম্পদ স্থানান্তর এবং ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির মতো অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রতিষ্ঠান সাইবার অপারেশন সেন্টার, হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার সিকিউরিটি ও ফায়ারওয়ালে বিনিয়োগ না করে নিম্নমানের ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করেছে। এমনকি তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সম্মতিও নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডেটা ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের প্রমাণও দিয়েছে।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল তথ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ হিসেবে ঘোষণা করে সাইবার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া শিশুদের তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ব্যবসা পরিচালনার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বড় অঙ্কের জরিমানা হলেও বাংলাদেশে এসব ক্ষেত্রে যথাযথ জবাবদিহিতা নেই বলেও মন্তব্য করেন।

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও জাতীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা আইন কার্যকর করতে দ্রুত একটি স্বতন্ত্র ডেটা গভর্নেন্স কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন। এতে ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি, কমপ্লায়েন্স ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শক্তিশালী তদারকি ও আইন প্রয়োগ ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।