২২ মার্চ ২০২৬, ১৫:১১

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে এক তরুণ, অসহায় পরিবারের সাহায্যের আকুতি

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত যুবক  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব পুইছড়ি সিকদার পাড়ার এক তরুণ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যান্সার নন-হজকিন লিম্ফোমা-তে আক্রান্ত হয়ে গত ছয় মাস ধরে তিনি লড়াই করে যাচ্ছেন। এই লড়াই শুধু তার একার নয় তার দুই বছরের অবুঝ সন্তানের, তার স্ত্রীর, এবং একটি ভেঙে পড়া পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থতা ধরা পড়ার পরপরই তাকে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা কেমোথেরাপি শুরু করেন। ছয়টি কেমোথেরাপির মধ্যে তিনটি সম্পন্ন করা হলেও আশানুরূপ কোনো উন্নতি হয়নি। বরং রোগটি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। সংসারের সঞ্চয়, সম্পদ সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে এই চিকিৎসার পেছনে। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে কষ্ট করে আরও ২ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে রোগীকে ভারতের সিএমসি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হওয়ায়, চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখেই দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন তারা।

বর্তমানে পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে তারা এখন প্রায় নিঃস্ব। এমনকি নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোগীর স্ত্রী মুনমুন শর্মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, "গত ছয় মাস ধরে আমরা প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে লড়ছি। আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমাদের কাছে আর কিছুই নেই। আমি একজন স্ত্রী হিসেবে চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত, কিন্তু এখন আমি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছি।”

তিনি আরও বলেন, "আমার ছোট্ট সন্তানটা এখনো ঠিকমতো ‘বাবা’ বলে ডাকতে শেখেনি। ওর মুখের দিকে তাকালে বুকটা ভেঙে যায়। আমি চাই না আমার সন্তান এত ছোট বয়সে বাবাকে হারাক। আপনারা একটু সাহায্য করলে হয়তো আমার স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব।”

চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, "ডাক্তাররা বলেছেন দ্রুত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট না করলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। আমি সবার কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আমার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।”

বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে অর্থাভাবে। প্রতিটি দিন যেন তাদের জন্য নতুন এক অনিশ্চয়তা নিয়ে আসছে।

একদিকে হাসপাতালের বিল, অন্যদিকে সন্তানের ভবিষ্যৎ এই দুইয়ের মাঝে পড়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তবুও তারা আশা হারাতে চান না। কারণ একজন বাবা এখনো বাঁচতে চান তার সন্তানের মুখে “বাবা” ডাক শোনার জন্য।

স্থানীয়রা বলছেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে এই তরুণের চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। একটি পরিবার আজ সমাজের সহমর্মিতার দিকে তাকিয়ে আছে।

সহায়তার তথ্য
তন্ময় শর্মা (বিকাশ/নগদ): ০১৮৮৭৭৫৬৬০২
মুনমুন শর্মা (বিকাশ): ০১৮৫৬৬৮৪৫৯৭

জনতা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (মুনমুন শর্মা):0100269098745 রাউটিং নম্বর: 135154542

ব্যাংক: জনতা ব্যাংক, ইস্ট লালদিঘী শাখা, চট্টগ্রাম

জরুরি যোগাযোগ: ০১৮৫৬৬৮৪৫৯৭

এটি শুধু একটি রোগীর চিকিৎসার আবেদন নয় এটি একটি বাবার বেঁচে থাকার আকুতি, একটি মায়ের শেষ আশ্রয়, এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।