১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০

ভোট গণনার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন  © টিডিসি ফটো

ব্যালট ত্রুটির অভিযোগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আপত্তির মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ভোট গণনার সময় স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক এ ঘোষণা দেন।

আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। সমিতির মোট ভোটার ছিলেন ৬৮৯ জন। এর মধ্যে ৬৫৪টি ভোট পড়েছে। পরে ভোট গণনা শুরু হয়।

কয়েকজন আইনজীবী জানান, রাত নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত প্রায় ২০০টির বেশি ভোট গণনা করা হয়। এ সময় সিনিয়র সহসভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। 

অভিযোগে বলা হয়, ভোটারদের ব্যালট ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ভোটারদের ভোটের গোপনীয়তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ এনে তিনি নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনিসুর রহমান মঞ্জুও মৌখিকভাবে একই আবেদন জানান। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান বাবুল। সিনিয়র সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. ইউসুফ কবীর ফারুক, মো. ফরহাদ আহমেদ, সামসুল হক ও সুধীর চন্দ্র ঘোষ। সহসভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন আব্দুল হাকিম ও মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আনিসুর রহমান মঞ্জু, এ কে এম আব্দুল হাই, সৈয়দ তারেক আলী, মুখলেছুর রহমান, মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও মোহাম্মদ বশির আহমেদ খান। এ ছাড়া বিভিন্ন পদে আরও অনেকে প্রার্থী ছিলেন।

সভাপতি পদে প্রার্থী মো. মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, কোনো সমস্যা ছিল না। ভোট গণনার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন স্থগিত করেছেন। এটি বিধিবিধানের বাইরে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, সারাদিন আমরা নির্বাচন পরিচালনা করেছি। প্রায় ২০০টি ভোট গণনা করা হয়েছিল। একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। ব্যালটে ত্রুটি ছিল কি না -তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। তবে ভোট গণনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না।