১৩ জুন ২০২৬, ২২:৫৪

আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে লড়ছে ৮ তরুণ

প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ থেকে লড়ছে ৮ প্রতিযোগী  © টিডিসি সম্পাদিত

প্রথমবারের মতো আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে (APOAI) অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ৮ সদস্যের দল। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতিযোগীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (IIT) ভেন্যুতে প্রতিযোগীতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকেই সরাসরি অনলাইনে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের সদস্যরা।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৮ সদস্যের বাংলাদেশ দলে রয়েছেন- হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের লাবিব শাহরিয়ার, নটর ডেম কলেজ, ঢাকার ত্রিদিব রায় আর্য ও মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের মো. সাইদুজ্জামান আরাফ, দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাওফিল রহমান, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের মুর্তজা আব্দুল্লাহ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনন্য যারিফ আকন্দ এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল এর শিক্ষার্থী নাঈরা নাওয়ার আহমেদ। 

দলের একমাত্র নারী প্রতিযোগী নাঈরা নাওয়ার আহমেদ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে পারাটা অত্যন্ত গর্বের। এই অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি আমাদের যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের গভীরে নিয়ে গেছে, তা এক কথায় অসাধারণ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই অংশগ্রহণ দেশের আরও অনেক মেয়েকে ভবিষ্যতে এআই এবং প্রযুক্তির দুনিয়ায় আসতে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

প্রতিযোগীদের মধ্যে কনিষ্ঠ সদস্য, নাওফিল রহমান তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য হিসেবে এত বড় একটা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে লড়তে পারাটা আমার জন্য স্বপ্নের মতো। সিলেকশন ক্যাম্পের মেশিন লার্নিং কনটেন্ট এবং পাইথন কোডিংয়ের অভিজ্ঞতা আজ আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। আমরা বিশ্বমঞ্চকে টেক্কা দিতে পারি, আজ আমরা সেটাই প্রমাণ করতে চাই।

এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের জন্য অনসাইট পরীক্ষক (Proctor) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মো. আজম খান এবং তাসনিম মাহফুজ নাফিস। ৩ মাসব্যাপী কঠোর নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ২০-২৩ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পের মূল্যায়নের পর এই দক্ষ দলটিকে নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াড (BdAIO)-এর মূল আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (BdOSN)।

বাংলাদেশ দলের দলনেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন দলটির সম্ভাবনা নিয়ে বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা গত ৩ মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পে তাদের মেধার যে স্বাক্ষর রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এআই ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চের সেরা তরুণদের সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য আমাদের এই ৮ জন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভেন্যু থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আগামী আগস্টে কাজাখস্তানের মূল আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড (IOAI) পর্যন্ত আমাদের তরুণদের আত্মবিশ্বাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

ভেন্যুতে সরাসরি উপস্থিত থেকে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণকালীন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ড. মো. আজম খান বলেন, ৬ ঘণ্টার এই ম্যারাথন অলিম্পিয়াডে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং টেকনিক্যাল অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি দেখার মতো। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের তরুণরা যেভাবে বিশ্বমানের প্রক্টরিং ও পরীক্ষা নিয়মের সাথে খাপ খাইয়ে লড়ছে, তা দেশের এআই ইকোসিস্টেমের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। আমরা অত্যন্ত কড়া ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে পরীক্ষাটি পরিচালনা করছি এবং প্রতিযোগীদের চোখে-মুখে দারুণ কিছু করার যে তাড়না দেখছি, তাতে আমি খুবই আশাবাদী।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের প্রোগ্রাম অফিসার মোশারফ হোসেন টিপু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, এই অলিম্পিয়াডটি মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর ওপরে। এখানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রথমে এই অলিম্পিয়াডের একটি ন্যাশনাল কম্পিটিশন (জাতীয় প্রতিযোগিতা) হয়, পরে ন্যাশনাল কম্পিটিশনে নির্বাচিতদের নিয়ে একটা ক্যাম্প হয়। 
ক্যাম্প থেকে ৮ জন শিক্ষার্থীকে সিলেক্ট (নির্বাচিত) করা হয়, যারা আজকের ১ম এশিয়া প্যাসিফিক এআই কম্পিটিশনে পার্টিসিপেট করেছে। এশিয়া প্যাসিফিকে যে দেশগুলো আছে, সে দেশগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা এটাতে পার্টিসিপেট করে। অনুষ্ঠানটি বেইজিং সময়ের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের দুই সপ্তাহ পরে বাংলাদেশ কোনো মেডেল অর্জন করছে কি-না সে ফলাফল জানা যাবে।