বাংলার ম্যাথ এক্সিলেন্সি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত
‘গণিত হোক আনন্দের’ স্লোগানকে সামনে রেখে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রেণিভিত্তিক গণিত প্রতিযোগিতা ‘বাংলার ম্যাথ এক্সিলেন্সি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর জাতীয় পর্ব।
শুক্রবার (১ মে) ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা।
দেশের ৫২টি জেলা থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে অনলাইন বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয় এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায়।
এদিন সকাল ৮টায় বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভেন্যুতে উপস্থিত হন। শুরুতেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়। দুই পর্বের পরীক্ষায় ছিল এমসিকিউ ও লিখিত অংশ। পরীক্ষা শেষে নামাজ ও দুপুরের খাবারের বিরতির পর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন জটিল ও আকর্ষণীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অতিথিদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলার ম্যাথের গবেষণালব্ধ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ কম্পিটেন্সি বেইজড অ্যাসেসমেন্ট প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ও সক্ষমতার দিকগুলো নির্ণয় করতে পারবে।
জাতীয় পর্বে বিজয়ীদের ১০টি ক্যাটাগরিতে ১০টি গোল্ড, ৪০টি সিলভার এবং ৭০টি ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ৩০ জন পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ‘অন্যরকম বিজ্ঞান বাক্স’ প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-এর সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক-এর ইইই বিভাগের শিক্ষক ড. জি আর আহমেদ জামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুতুবউদ্দিন, বিশ্বব্যাংক-এর সিনিয়র অপারেশনস অফিসার সুপর্ণা রায়, প্রযুক্তি ও স্টেম শিক্ষাবিদ রকিবুল হাসান এবং অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (ACI)-এর কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব শাহ আলমসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন, পিএইচডি।সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলার ম্যাথের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ শাহরিয়ার। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাহতাব হোসাইন। সবশেষে ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে বাংলার ম্যাথ এক্সিলেন্সি চ্যাম্পিয়নশিপের কো-অর্ডিনেটর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আল শাকুর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আয়োজকরা জানান, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি করা হয়। জাতীয় পর্বের বিজয়ীরা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গণিত দলের সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবে এবং জাপান ও মঙ্গোলিয়ায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
এ আয়োজনে ভেন্যু পার্টনার হিসেবে ছিল ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, লজিস্টিক পার্টনার এসিআই লিমিটেড (ACI Limited), আয়োজক পার্টনার ডিআরএমসি সায়েন্স ক্লাব, মিডিয়া পার্টনার ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’ এবং গিফট পার্টনার হিসেবে ছিল ‘অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স’।