১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৫৮

বান্ধবীর নেতৃত্বে দুই ছাত্রীকে কলেজ থেকে ডেকে নিয়ে জুতাপেটা-চুল ধরে টানাটানি, ভিডিও ভাইরাল

বান্ধবীর নেতৃত্বে দুই ছাত্রীকে কলেজ থেকে ডেকে নিয়ে জুতাপেটা-চুল ধরে টানাটানি, ভিডিও ভাইরাল  © সংগৃহীত

বরিশালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর, চুল টানাটানি ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে তাদেরই এক সহপাঠী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মুলাদী সরকারি কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজ চত্বরে উন্মুক্ত স্থানে একাধিক তরুণী অপর দুই তরুণীকে মারধর করছেন। তারা চুল ধরে টানাটানি, চড়-থাপ্পড় এবং জুতাপেটা করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুলাদী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির নিয়মিত দুই ছাত্রী তোয়া ও সুমি গত ১৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে কলেজে গেলে এ হামলার শিকার হন।

অভিযোগকারীদের দাবি, উম্মে হাবিবার সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব ছিলো এবং এক সঙ্গে কলেজে যাওয়া আসা করতেন। কয়েকদিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে তারা হাবিবার নম্বর ব্লক করে দেয়। এতে হাবিবা ক্ষিপ্ত হয় এবং বৃহস্পতিবার সহপাঠী কেয়ার মাধ্যমে তাদের শ্রেণি কক্ষ থেকে ডেকে নেয়া হয়। পরবর্তীতে উম্মে হাবিবার বড় বোন নাছরিনসহ বহিরাগতরা তোয়া ও সুমির ওপর হামলা চালায়।

অভিযোগে তোয়া ও সুমি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা তাদের চুল ধরে টানাটানি, পেটে লাথি, কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং পোশাক ধরে টানাটানি করে লাঞ্ছিত করে। এ সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি এবং কলেজে আসা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী তোয়া জানান, তারা কলেজে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে চান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, বিষয়টি কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য কলেজের অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।