ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বের জেরে কেসি কলেজে পাঠদান বন্ধ
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের জেরে ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে আজ বৃহস্পতিবার সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে কলেজ প্রশাসন। বুধবার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসরুর উল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে শহরে পৃথকভাবে পাল্টাপাল্টি মিছিল করে দুই সংগঠন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কেসি কলেজ ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান এবং সংবর্ধনা আয়োজনের কথা ছিল। অনুষ্ঠানে অতিথিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহরিয়ার মো. মাহবুব ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে কলেজ ক্যাম্পাসে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। তবে গত ৫ অক্টোবর ছাত্রদলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুষ্ঠানটি কলেজে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, কেসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি বাবর আলী মাহফুজের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে শিবিরের এক কর্মী ফেসবুকে পোস্ট দেন। তারা শিবিরের নেতৃবৃন্দকে পোস্টটি মুছে ফেলতে বললে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় এবং পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসরুর উল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।