২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৫

ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার মানুষ গড়ার তীর্থভূমি হামদর্দ পাবলিক কলেজ

হামদর্দ পাবলিক কলেজ, উপরে ডান পাশে ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া  © সংগৃহীত

পটুয়াখালীর নদীভাঙন ও ঘূর্ণিঝড়কবলিত গলাচিপা চরের এক অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান আতাউর। বাবা খলিলুর রহমান কষ্টাজিত উপার্জনের মাধ্যমে তার পড়াশোনা চালিয়ে নিলেও অনেক সময় দারিদ্র্যের কারণে বই কেনারও সুযোগ হত না। কিন্তু দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে স্কুল শিক্ষকদের সহায়তায় এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ অর্জন করেছিলেন তিনি। এমন সাফল্যের পরও দারিদ্র্যের করালগ্রাসে আতাউর যখন হারিয়ে যেতে বসেছিলেন, তখনই এগিয়ে আসেন ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। আধুনিক হামদর্দ বাংলাদেশ বা হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের এই রূপকার আতাউর রহমানকে তার প্রতিষ্ঠিত হামদর্দ পাবলিক কলেজে নিয়ে এসে থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।

এক সময় হারিয়ে যেতে বসা আতাউর এখন চিকিৎসক। হামদর্দ পাবলিক কলেজ থেকে সাফল্যের সাথে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন তিনি। এরপর এমবিবিএস সম্পন্ন করে ৪০তম বিসিএস। এখন নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন ডা. আতাউর রহমান।

প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতির সাথে কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীবৃন্দ যারা কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে চলেছেন

শুধু আতাউর রহমান নয়, হামদর্দ বাংলাদেশের মাধ্যমে ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে অগণিত পথহারা স্বপ্নকে লালন করে চলেছেন। আর এই স্বপ্ন লালনে তার চারণভূমি রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত হামদর্দ পাবলিক কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়; শিক্ষা হলো মানুষের সার্বিক দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ। এই আদর্শকে ধারণ করেই আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও আলোকিত মানুষ তৈরির এক ব্যতিক্রমী পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে হামদর্দ পাবলিক কলেজ। ২০১০ সালে যাত্রার পর থেকেই দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক অনন্য সাফল্যগাথা রচনা করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: হামদর্দ পাবলিক কলেজ: যেখানে স্বপ্নেরা ডানা মেলে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে ২০১০ সালের ১৩ জুন প্রতিষ্ঠা লাভ করে হামদর্দ পাবলিক কলেজ। আধুনিক হামদর্দ বাংলাদেশের রূপকার, এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ মোতাওয়াল্লী ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া এই প্রদীপের জ্বালক। প্রাতিষ্ঠানিক সূচনাতেই তিনি বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু করেছিলেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আর্থিক অসচ্ছলতা কোনো শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার পথে বাধা হতে পারবে না। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজটি সুদৃঢ় নেতৃত্বের ছায়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিসিএস (প্রকৌশল) ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জনকারী ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত হামদর্দ পাবলিক কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল ইসলাম

পরে গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনের সুদক্ষ ও দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় কলেজটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার প্রতিটি ক্ষেত্রে অনন্য রূপ লাভ করেছে। তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজে যোগ হয়েছে ‘মানবিক বিভাগ’, যা দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজের পূর্ণতা দিয়েছে। সভাপতির দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও একজন সম্পূর্ণ মানুষ হতে সহায়তা করছে।

আরও পড়ুন: শৃঙ্খলায় দৃঢ়, অর্জনে অনন্য: শ্রেষ্ঠত্বের পথে হামদর্দ পাবলিক কলেজ

প্রতিষ্ঠার পর ২০১২ সালে প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের সাফল্য দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেয় প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র ৪ বছরের মাথায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ১৯তম স্থান অর্জন করে চমক সৃষ্টি করে। ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিগত ১৪ বছরের এইচএসসি ফলাফলেই এর গুণগত মান সুস্পষ্ট। এ সময় মোট ৩ হাজার ১০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১ হাজার ২৭২ জন শিক্ষার্থী। আর গড় পাসের হার প্রায় ১০০%। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ফেইল রিকভারি টিম (এফআরটি) এবং বাধ্যতামূলক স্পেশাল ক্লাস অ্যান্ড কুইজের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমেই এই সাফল্য সুনিশ্চিত হয়েছে। এছাড়াও দূরের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ৯ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হোস্টেল ও ৪টি ছাত্র হোস্টেলের পুষ্টিগুণসম্পন্ন আবাসন ব্যবস্থা সুবিধা প্রদান করছে।

কলেজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘জ্ঞানে অগ্রগতি, শিক্ষায় অগ্রগতি’—এ আদর্শকে সামনে রেখে সঠিক জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক, আলোকিত মানুষ এবং একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠন করার প্রয়াসে হামদর্দ পাবলিক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠাতা ও হামদর্দ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া এবং হামদর্দ পাবলিক কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই আদর্শকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি দেশ গঠনে সুনামের সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষসহ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি

আরও পড়ুন: হামদর্দ পাবলিক কলেজ: ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্যে হোস্টেলে সুনিবিড় পরিচর্যা

জানতে চাইলে হামদর্দ পাবলিক কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হামদর্দ পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূইয়ার শিক্ষা ও মানবকল্যাণের স্বপ্ন এবং গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় আমাদের এই অগ্রযাত্রা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হামদর্দ পাবলিক কলেজ আজ সাফল্যের পথে এগিয়ে চলছে—আমাদের প্রত্যয়, এই পথচলা আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ, আরও গৌরবময় হবে।