এমপিপত্নীকে কলেজের সভাপতি নিয়োগ স্থগিত করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) স্ত্রীকে সভাপতি করার আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। পরদিন আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওই কলেজের এমপির স্ত্রীর সভাপতি নিয়োগ স্থগিত করে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পরিবর্তন সংক্রান্ত স্মারক নং- INS02-2/00186/2024/6625/১৪২০০ তারিখ: ২৩/০৭/২০২৬ পত্রটি ভাইস-চ্যান্সেললের নির্দেশনা মোতাবেক আপাতত স্থগিত করা হলো। এই চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেছেন।
জানা গেছে, আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন। কলেজের এমপির স্ত্রীর সভাপতি নিয়োগ স্থগিতের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের দেওয়া ওই সিদ্ধান্ত এবং এ সংক্রান্ত সংবিধির একটি ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এক আদেশে ঢাকা-১৯ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে সভাপতির দায়িত্ব দেন।
এ সিদ্ধান্ত আসার পর শিহাব উদ্দিনের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হলেও কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তিনি এ রিট মামলা করেন।
রিট আবেদনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই ধারায় গভর্নিং বডির মনোনয়ন পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কারণ ছাড়াই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় রিটকারীর সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আবেদনে বলা হয়।