রাজশাহী কলেজের সার্ধশতবর্ষ উদযাপনের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন
ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে সার্ধশতবর্ষ উৎসবের নিবন্ধন কার্যক্রম। শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘রাজশাহী কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম কেন্দ্র। তিনি বলেন, রাজশাহী কলেজের সার্ধশতবর্ষ উদযাপন এমনভাবে আয়োজন করতে হবে, যাতে এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকে। এই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা আজ দেশের প্রশাসন, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে উৎসবটি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
তিনি বলেন, ‘সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে কোনো বিভেদ বা দলীয় সংকীর্ণতার স্থান নেই। রাজশাহী কলেজ সবার, তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এই আয়োজন সফল করতে হবে। নিবন্ধনের মাধ্যমে সবাইকে ইতিহাসের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। কলেজের অফিসের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), একটি কম্পিউটার এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করারও ঘোষণা দেন তিনি।’
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজশাহী কলেজের জন্য একটি আধুনিক ১০ তলা অডিটোরিয়াম নির্মাণ, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হল সংস্কার, ঐতিহাসিক মাঠের উন্নয়ন এবং সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি কলেজের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সার্ধশতবর্ষ উদযাপনকে সফল করতে একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই আয়োজন কেবল একটি পুনর্মিলনী নয়; এটি রাজশাহী কলেজের দেড় শতকের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই আয়োজনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘একসময় রাজশাহী কলেজকে শতবর্ষের ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান বলা হতো, আর আজ সেটি সার্ধশতবর্ষের গৌরব অর্জন করেছে। তিনি বলেন, শতবর্ষ উদযাপনের স্মৃতি এখনও তার মনে উজ্জ্বল। এবারও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আরও বড় পরিসরে উৎসব আয়োজন সম্ভব হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এই উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থাকা কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘রাজশাহীকে আরও আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামের মঞ্চ আধুনিকায়নের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। এছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রস্তাবও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ‘সার্ধশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হলো। শিক্ষক, বর্তমান শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করার আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেন, এই উৎসব হবে রাজশাহী কলেজ পরিবারের মিলনমেলা এবং দেড় শতকের গৌরবগাঁথা উদযাপনের এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ।’
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইব্রাহিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব এস. এম. জহুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান সহ অসংখ্য গুণীজন, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, সার্ধশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নিবন্ধন কার্যক্রম পহেলা আগস্ট থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ১ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া সর্বশেষ চার শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা এবং এর আগে উত্তীর্ণ সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্য ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।