০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪

আর্থিক ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ বরখাস্ত

আহমেদ শফিক  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শফিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার, আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের গভর্নিং বডির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. লুৎফর রহমান আকন্দকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের (আর্থিক ও প্রশাসনিক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত কলেজের গভর্নিং বডির বিশেষ সভায় অধ্যক্ষ আহমেদ শফিককে অধ্যক্ষ পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তটি আগামী ৮ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। একই দিন থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মো. লুৎফর রহমান আকন্দ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কলেজ সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার, আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্তে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের উল্লেখ করে। পরে কলেজ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ২০১২-১৩ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদন দেয়।

অডিট প্রতিবেদনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৬টি বিলে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৮৮০ টাকা উত্তোলন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১টি বিলে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৩ টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫টি বিলে ১১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫১ টাকা উত্তোলনের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক। তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্নীতির যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী  বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।