০৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:২৯

এডহক কমিটি-অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গর্ভনিং বডি, নেপথ্যে সাবেক অধ্যক্ষ

অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম  © টিডিসি সম্পাদিত

ভোলার বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ ও এডহক কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর, সীলমোহর জালিয়াতিসহ ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গভর্নিং বডির কমিটি গঠন করা অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটির তদন্তে নেমে সত্যতা পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এমন ঘটনায় হতবাক কলেজেটির সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসীরা।

জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০২০ সালে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বেগম রহিমা কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম। একই বছরে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রভাষক মো. শরিফুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ (চলতি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মাকসুদুর রহমান।

২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এমপিওভুক্ত বেসরকারি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এডহক কমিটি গঠন করে চিঠি দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েলকে সভাপতি ও  বিদ্যোৎসাহী সদস্য করা হয় মো. আলমগীর হোসেনকে।

এডহক কমিটির অনুমতি ছাড়াই বেগম রহিমা ইসলাম কলেজে দুই বছরের জন্য গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক একটি আবেদন করেন সাবেক অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গঠিত এডহক কমিটির সভাপতি, বিদ্যোৎসাহী সদস্য এবং কলেজের অধ্যক্ষ-প্রভাষকের স্বাক্ষর জাালিয়াতি করে ১১টি বিভিন্ন দরখাস্ত ও রেজুলেশন তৈরি করেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল বেগম রহিমা কলেজের গভর্নিং কমিটি গঠন করে কলেজের  ই-মেইলের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

চিঠি পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ৫ মে এডহক কমিটির স্বাক্ষর জালের বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জানায় এডহক কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) জহুরুল ইসলাম গভর্নিং কমিটি গঠনের চিঠিটি বাতিলের দরখাস্ত করেন। পরে একই বছরের ৩ জুন চিঠিটি বাতিল করে ফের জবির সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েলকে সভাপতি ও  বিদ্যোৎসাহী সদস্য করা হয় মো. আলমগীর হোসেনকে। 

এদিকে স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসের ১০ তারিখে ভোলার চরফ্যাশনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি মামলা করেন বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) মো. মাকসুদুর রহমান। পরে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়, মামলার বিবাদী মো. জাহাঙ্গীর আলম বেগম রহিমা ইসলাম ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তদন্তে প্রাপ্ত বিবাদী মো. পারভেজ হোসেন ও মো. করিম খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। তারা পরস্পর যোগসাজসে গভর্নিং বডির কমিটি গঠনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর পাঠানো কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

এ বিষয়ে বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে গভর্নিং কমিটি বাতিল করা হয়েছে। আমি এখনো কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে আছি। 

২০২০ সালে কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে  আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিনি।’

এডহক কমিটির সভাপতি ও জবির সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কলেজের গভর্নিং বডির কমিটি করতে আমাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কাগজপত্র জমা দিয়েছে। তাই আমরা মামলা করেছি, পিবিআই তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে, বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।