বিশ্বকাপ উন্মাদনায় তিতুমীরে নেই বড় পর্দার আয়োজন, আক্ষেপ শিক্ষার্থীদের
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে বড় পর্দায় খেলা দেখার জমজমাট আয়োজন থাকলেও ব্যতিক্রম দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ সরকারি তিতুমীর কলেজ।
বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ পেরিয়ে গেলেও কলেজ ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শনের কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। ফলে সম্মিলিতভাবে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এতে ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও আক্ষেপ।
শিক্ষার্থীরা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কলেজের বিপুল সংখ্যক ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বড় পর্দার প্রদর্শনীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ গত বিশ্বকাপে তিতুমীর কলেজে বড় এলইডি পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা ছিল, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিতুমীর ফুটবল ক্লাব বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শনের ঘোষণা দিলেও পরে তা স্থগিত করে। ক্লাবের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদল বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আয়োজনের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফুটবল ক্লাব নিজেদের পূর্বনির্ধারিত আয়োজন বাতিল করে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শনের কোনো আয়োজন বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখা গেলেও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে, অনেক সময় বাফারিংয়ের মধ্যে খেলা দেখতে হচ্ছে। বিশাল এই ক্যাম্পাসে সামর্থ্যের অভাব নেই, অভাব শুধু সদিচ্ছার। চার বছর পর পর আসা বিশ্বকাপের আনন্দ একসঙ্গে উপভোগ করতে না পারাটা ক্যাম্পাস জীবনের একটি বড় অপূর্ণতা।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সোহেল মিয়া বলেন, বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখা ক্যাম্পাস জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশ্বকাপ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কলেজের মাঠ কিংবা উন্মুক্ত কোনো প্রাঙ্গণে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা মোটেও অসম্ভব নয়।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদ বলেন, বিশ্বকাপ শুধু খেলা নয়, এটি আমাদের কাছে একটি উৎসব। ক্যাম্পাসে একসঙ্গে খেলা দেখার সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি পেত। এমন একটি বৈশ্বিক আসরে কলেজে খেলা সম্প্রচারের ব্যবস্থা না থাকায় আমরা হতাশ।
এ বিষয়ে তিতুমীর ফুটবল ক্লাবের সভাপতি আকাশ বলেন, প্রয়োজনীয় ফান্ড ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়েছে। পরবর্তীতে অন্য কোনো সংগঠন বা পক্ষ খেলা প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক ইমন বলেন, আয়োজন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আমরা ফান্ড সংগ্রহসহ বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হই। পরে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে থেকে খেলা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আমাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোকে ঘিরে কলেজ প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো উদ্যোগ নিলে এখনও বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।