উদ্বোধনের ৪ বছরেও চালু হয়নি লিফট,ব্যাহত হচ্ছে ক্লাস-পরীক্ষা
ঢাকা কলেজের জুলাই-২৪ একাডেমিক ১০ তলা ভবন উদ্বোধনের চার বছরেও চালু হয়নি লিফট। এতে তীব্র ক্লাস রুম সংকটের মাঝেও অব্যবহৃত থাকছে ভবনের পঞ্চম থেকে দশম তলার কক্ষসমূহ। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থের এই প্রকল্পের অপচয়ের পাশাপাশি নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
তবে এই সংকট ঈদের শেষ হওয়া আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও লিফট প্রতিস্থাপনকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শফিক এন্টারপ্রাইজ। উল্লেখ্য যে, ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয় ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর। দীর্ঘ ১৪ বছর পরও ভবনটিতে লিফট না থাকার ক্ষুদ্ধ কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাউসার আজম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই দেখছি, ঢাকা কলেজের লিফট নষ্ট হয়ে আছে। কলেজ প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে লিফট চালু করার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সে আশ্বাস বাস্তবায়ন করতে পারে নি। লিফট না থাকার ফলে, সিড়ি দিয়ে উঠতে আমাদের সমস্যা হয়। কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই অতি দ্রুত যেন লিফট চালু করা হয়।’
সরজমিনে জুলাই-২৪ ভবন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ভবনটির সামনে স্থাপন করা হয়েছে নতুন নামফলক। জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে মূল প্রশাসনিক ভবন থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগ স্থানান্তর করা হয়েছে এখানে। মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ও দর্শন বিভাগ স্থানান্তর করলেও লিফট না থাকায় এই ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় নি।
সংকটের চিত্র তুলে ধরে ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আক্তারা বানু বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্ট ক্লাসরুম সংকট, মাত্র দুই রুমেই পরিচালনা করা হচ্ছে অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ক্লাস। ক্লাস সংকট থাকায় আমাদের ক্লাস নিতেও সমস্যায় পড়তে, হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১০ তালা ভবনে আমাদের বিভাগ দেওয়া থাকলেও লিফট নষ্ট থাকায় সেখানে ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি লিফট চালু হয় তাহলে, তাহলে নতুন ভবনে নির্ভিগ্নে ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা কলেজে সাত কলেজের পরীক্ষা, সরকারি ছুটির দিন, বিভিন্ন নিয়োগের পরিক্ষা হয়ে থাকে। সেখানে অনেক নারী শিক্ষার্থীও পরিক্ষা দিতে আসে। তাদের সিড়ি দিয়ে ১০ তলার এই ভবনটিতে উঠতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আজ কথা হয়েছে। আমি নিজেও আজ লিফট পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।বিদ্যুতের সংযোগের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।বর্তমানে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই লিফট চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতেই দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’
লিফটের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রধান শফিউল আজম বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে কাজের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি হয় নি। অফিসিয়াল কিছু কাজের জন্য প্রায় দশ-পনেরো দিন চলে গিয়েছে। লাইসেন্স ইমপোর্টের একটা পারমিশন নিতে হয়, লাইসেন্স ইমপোর্ট এর কাজ শেষ হওয়ার পর অফিস থেকে ফাইল রেডি করে সেটা পরবর্তীতে সাবমিট করেছি ডিপিডিসিতে (ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড)।’
তিনি আরও জানান, ‘এই ডিপিডিসি থকে প্রসেসিং হয়ে আমাকে হয়তো দুই এক দিনের মধ্যে টাকা জমা দেওয়ার জন্য ডাকতে পারে। প্রতি কিলোতে ১২ টাকা করে জমা দিতে হবে, এখানে ৪০০ কিলোওয়াট ধরা আছে। এই প্রকল্পের মোট বাজেটের পরিমান ১ কোটি ৩ লাখ টাকা, এর মধ্যে ১০% লেসে দিতে হয়েছে। লিফটের কাজ প্রায় শেষের দিকে, আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই লিফট চালু করা হবে।’